ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, যোগ দিল ককরোচ পার্টি
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে আজ শুক্রবার নয়াদিল্লি ও মুম্বাইতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আন্দোলনকারীরা। আজকের উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো এই বিক্ষোভে তরুণদের নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয় ‘ককরোচ’ পার্টির সদস্যরাও যোগ দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীরা ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে এর প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে। এ সময় ঘটনাস্থলগুলোতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গত মাসে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাপক হারে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে, যার মাধ্যমে লাখ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
ভারতের নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংস্থা ইসিআই সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) নয়াদিল্লির প্রাণকেন্দ্রে সরকার-নির্ধারিত প্রতিবাদ স্থান যন্তর মন্তরের চারপাশের রাস্তাগুলোতে শত শত মানুষ জড়ো হয়। এই প্রতিবাদ সমাবেশটি পুলিশের ব্যারিকেড দিয়ে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
এ বিষয়ে কথা বলেন ১৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিধি শর্মা। তিনি বলেন, ‘আমার অনুপ্রেরণা হলো আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাকে ভোট দিতেই হবে।’
গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যাঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সমর্থকরা জুলাইয়ের পর এই প্রথমবারের মতো মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। জুলাইয়ে তাদের দেশব্যাপী আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রেসক্রিপশনে বা নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন।
দিল্লির বিক্ষোভে ৩৮ বছর বয়সী মীনা গিরি বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে রাজধানীতে বসবাস করা এবং আগের নির্বাচনগুলোতে ভোট দেওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মৌলিক অধিকার কীভাবে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া সম্ভব?’
‘ভোটের অধিকার’
আরেকজন বিক্ষোভকারী, ১৮ বছর বয়সী ইমরান বলেন, তার পুরো পরিবারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তারা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি জানান।
ইমরান বলেন, ‘এর ফলে আমরা আমাদের অন্যান্য সরকারি কাগজপত্র সংগ্রহ করতে সমস্যায় পড়ছি। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের বেশি কিছু নেই এবং আমরা এটার ওপরই নির্ভরশীল।’
দিল্লিতে পুলিশ বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করে বাসে তুলে অন্য জায়গায় নিয়ে ছেড়ে দেয়, তবে তাদের কেউ কেউ হেঁটে আবারও যন্তর মন্তর এলাকায় ফিরে আসেন।
সাহানা নামের এক আইনজীবী বলেন, ‘তারা যতই চেষ্টা করুক না কেন, আমরা বারবার ফিরে আসব এবং প্রতিবাদ জানাব। তাকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু তিনি দুই কিলোমিটার হেঁটে এসে আবার বিক্ষোভে যোগ দেন। সোহানা প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমাদের হাঁটার অধিকার তো তারা কেড়ে নিতে পারবে না, পারবে কি?’
পরিস্থিতির কারণে ওই এলাকায় মোবাইলফোনের ইন্টারনেট সেবাও স্থগিত রাখা হয়। বিক্ষোভে যোগ দেওয়া কিছু বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকেও পুলিশ কিছু সময়ের জন্য আটক করে রাখে।
এদিকে, বিরোধী দলগুলো আরও আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে আগামী মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা এবং পরবর্তী দিনগুলোতে দেশব্যাপী ’গণতন্ত্র রক্ষা’ সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আগের ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকা আন্দোলনকর্মী বিজেতা দাহিয়া বলেন, ‘কেউ আন্দোলন করতে চায় না, কিন্তু সরকার ভুল করলে মানুষ প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হয়।’ তিনি সাধারণ জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের যেকোনো স্থানেই প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। এটি ভোটের অধিকারের বিষয়।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক