রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ১৬
গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশ দুটি এ তথ্য জানিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের ভয়াবহতম এই সংঘাত শুরুর বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের পর এ বছরের গ্রীষ্মকালটি ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী। সাম্প্রতিক সময়ে মস্কো এবং কিয়েভ উভয় পক্ষই তাদের হামলা আরও জোরালো করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আলোচনা এখন পর্যন্ত কোনো সাফল্য আনতে পারেনি। অন্যদিকে, ক্রেমলিন বারবার বলেছে যে তারা পূর্ব ইউক্রেনের বাকী অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
কিয়েভ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রুশ হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি, জাপোরিজিয়া এবং ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে চালানো হামলায় হতাহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।
এছাড়া কিয়েভে দিনের বেলা চালানো রুশ হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার এক দিন পরই আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। শহরটির অধিবাসীরা যুদ্ধের মধ্যে আরও একটি শীতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার মুখে রাজধানীটির ওপর তাদের হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া।
অন্যদিকে, রাশিয়া জানিয়েছে ইউক্রেনীয় হামলায় তাদের ক্রাসনোদার এবং বেলগোরোদ অঞ্চলে চারজন নিহত হয়েছে।
খোরসন অঞ্চলে দখলদার কর্তৃপক্ষের নেতৃত্ব দিতে মস্কো থেকে নিযুক্ত ভ্লাদিমির সালদো জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্রিমিয়ার কাছে আসকানিয়া-নোভা গ্রামের একটি ক্যাফেতে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছোট ছোট দুটি মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে বলে টেলিগ্রামে জানান তিনি। এছাড়া ওই এলাকায় আরও একজন পুরুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মস্কো-নিযুক্ত কর্মকর্তা ইয়েভগেনি বালিটস্কি জানিয়েছেন, রাতের বেলা ইউক্রেনীয় হামলায় জাপোরিজিয়া অঞ্চলের দখলকৃত অংশে আরও তিনজন নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
তবে অনেক পর্যবেক্ষকের কাছেই এই সম্ভাবনাটি বহুদূর বলে মনে হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক