শত্রুকে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না : আইআরজিসি
শত্রুপক্ষের সামরিক আগ্রাসনের মুখে এক চুলও ছাড় দেবে না ইরান। ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আমরা যেমন শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। কোনো অবস্থাতেই শত্রুপক্ষকে এক চুল পরিমাণ ছাড় দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উত্তর-পশ্চিম ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলো পরিদর্শনের সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামি এই মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরার।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কারামির বরাতে ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি জানায়, ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে বিজয় অর্জন করবে ইসলাম ও বীর ইরানি জাতি।
মোহাম্মদ কারামি দেশের সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে মনে করিয়ে দেন যে, পরাশক্তিগুলোর অহেতুক চাপ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একমাত্র উপায় হলো জাতীয় প্রতিরোধ। তিনি আরও বলেন, অন্যায় ও হুমকির মুখে মাথানত না করে সাহসিকতার সঙ্গে অবিচল থেকে নিজেদের নীতি ও আদর্শ ধরে রাখাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনের ফাঁকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে আরাঘচি জানান, বৈঠকে তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ফ্রান্সের ‘হস্তক্ষেপমূলক’ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন ও তেহরানে ফরাসি দূতাবাসকে স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে ফ্রান্সের অবস্থানকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে আরাঘচি ফরাসি সরকারের ‘দ্বিমুখী নীতি’র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে নীরব থেকে প্যারিসের মানবাধিকার নিয়ে কথা বলা সাজে না।
এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ফ্রান্স কারও সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না; তবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সামরিক উপস্থিতি বা সক্রিয় ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক