ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ ফেরি থেকে উদ্ধার ৯৭, নিহত ৬
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে নিখোঁজ হওয়া যাত্রীবাহী ফেরি ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮ থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৯৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা।
ফেরিটিতে মোট ২৪৩ জন আরোহী ছিলেন। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে স্থানীয় সময় আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফেরিটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। নিখোঁজ অন্য যাত্রীদের সন্ধানে এখনও অভিযান চলছে। খবর বিবিসির।
ফেরিটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশের বানজারমাসিনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় রোববার রাত ২টার দিকে বানজারমাসিনের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে ফেরিটির সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিটি ভার্গো স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিটে প্রথম বিপদের সংকেত বা দুর্ঘটনার খবর কর্তৃপক্ষকে জানায়। সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণকারী দুটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে সুরাবায়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ফেরিটি। রোববার দুপুর ২টার মধ্যে বানজারমাসিনে পৌঁছানোর কথা ছিল।
উদ্ধার অভিযানে ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা, নৌবাহিনী, সামুদ্রিক পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে কয়েকটি উদ্ধারকারী জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জাভা সাগরের ওই এলাকার সব নৌযানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। কোনো যাত্রী বা নিখোঁজ ফেরির চিহ্ন দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রোববার সকালে বানজারমাসিনের ত্রিসাকতি বন্দর এলাকায় একটি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে স্বজনদের খোঁজে বন্দরে ভিড় করছেন অনেকেই। বানজারমাসিনের বাসিন্দা রুসমিলাওয়াতি তার আট আত্মীয়ের খোঁজ নিতে বন্দরে যান। তারা জাভায় কয়েকজনের কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় তারা জাহাজে করে বানজারমাসিনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে রুসমিলাওয়াতি বলেন, যাওয়ার সময় তারা বিমানে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরার সময় জাহাজে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে চেয়েছিলেন।
রোববার বিকেল পর্যন্ত তিনি স্বজনদের কেউ উদ্ধার হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাননি বলে জানান।
পরিবারের সদস্যরা সর্বশেষ তাদের এক আত্মীয়ের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তার খবর পেয়েছিলেন। সেখানে ওই ব্যক্তি সমুদ্রের ঢেউ নিয়ে আতঙ্ক প্রকাশ করে লিখেছিলেন, রাতের ঢেউগুলো খুবই ভয়ংকর মনে হচ্ছে।
স্বজনদের নিরাপদে ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করছেন রুসমিলাওয়াতি।
অন্যদিকে স্বামী আহমাদ সুপান্দি বেঁচে আছেন—এই খবর পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন মিসনাহ। পেশায় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক আহমাদ ওই ফেরিতে ছিলেন। পরে এমভি হাইডা নামের একটি জাহাজের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে সুরাবায়ার তানজুং পেরাক বন্দরে ফেরিটির ক্রুদের স্বজনরাও তাদের প্রিয়জনদের খবর জানতে জড়ো হয়েছেন।
ফ্রেডি নামের এক ব্যক্তি জানান, তার ছোট ভাই স্টিভি মানুহুয়া ওই ফেরিতে কিবোর্ড বাদক হিসেবে কাজ করতেন এবং যাত্রীদের বিনোদন দিতেন। ফেরিটি সুরাবায়ায় অবস্থান করার সময় দুই দিন আগে ভাইয়ের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াতের জন্য ফেরি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনব্যবস্থা। তবে দেশটিতে নৌদুর্ঘটনার ঘটনাও প্রায়ই ঘটে।
এর আগে গত মাসে মাদুরা দ্বীপের কাছে একটি ফেরিতে আগুন লেগে পাঁচজন নিহত হন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক