সৌদির যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুথিদের
সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ এবং অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ (হুথি)।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর আনাদুলুর।
বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাদের বাহিনী একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি সৌদি উভচর পরিবহণ জাহাজ এবং বেশ কয়েকটি নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুল আঘাতে কয়েকটি জাহাজ সাগরে ডুবে গেছে। বাকিগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনের মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশের ‘সাহন আল-জিন’ সেনাশিবিরে অবস্থিত সৌদিদের প্রধান অস্ত্রাগারেও একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে হুথিদের এই দাবির বিষয়টি নিয়ে এখনও সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্বাধীন ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যম ‘আল-মাসদার অনলাইনের’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার সকালে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালির আল-আরদি বন্দরে চারটিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি বেসামরিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। ‘আমীর খান’ নামের ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি বিলাল আল-শুমিয়াই নামে এক ইয়েমেনি ঠিকাদারের।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে সংস্কারকাজের জন্য বন্দরে নোঙর করা জাহাজটি সম্পূর্ণ খালি ছিল। ঘটনার এক সপ্তাহ আগেই এর ইয়েমেনি নাবিকরা নিরাপদে স্থান ত্যাগ করায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে হামলায় জাহাজটি এবং বন্দরের ডেক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসা ইরান-সমর্থিত এই হুথি গোষ্ঠী গত কয়েক বছর ধরে লোহিত সাগরে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হুতিদের এই নতুন দফায় আক্রমণ গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেনে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক