জুলাইয়ে মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত ৫০, সমঝোতা স্থগিতের ইঙ্গিত
চলতি জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সামরিক হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখন কার্যত স্থগিত রয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ জুলাই) ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ টানা সপ্তম রাতের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় আঘাত হানে। খবর আল জাজিরার।
ইরানের দাবি, সর্বশেষ হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত ১০ হাজার মানুষ সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর দিকে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় নেওয়া সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন ও কার্যত স্থগিত করেছে। ফলে আমরাও ওই চুক্তির আওতায় নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছি এবং এখন দেশের প্রতিরক্ষায় মনোযোগ দিচ্ছি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে ওয়াশিংটন সমঝোতার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায়নি, বরং তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সংঘাতের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করছে।
পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান এমন জবাব দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ হয়ে থাকবে।
এদিকে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ অভিযোগ করেন, সমঝোতা স্মারকের কালি শুকানোর আগেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করেছে। তার দাবি, ওই চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরানের ওপরই ন্যস্ত ছিল।
উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তসহ সমঝোতার বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে মার্কিন হামলায় দক্ষিণ ইরানের জাস্ক এলাকার একটি সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রের পাম্পিং স্টেশন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম পানিবিহীন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতের দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার পর বাহরাইনে বারবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয় এবং জর্ডান দাবি করেছে, তারা ইরানের ছোড়া ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা শেষ হয়ে গেছে। এরপর তিনি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করেন এবং ইরানি তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞার শিথিলতাও প্রত্যাহার করেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক