হরমুজে সেনা পাঠালে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সম্পত্তি’ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরানবিরোধী যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া যোগ দিলে দেশটিকে শত্রুরাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে তাদের সমস্ত অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থে হামলা চালানো হবে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মারান্দি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আল মায়াদিনের ‘দ্য গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডঅফ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারান্দি বলেন, কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার নামে দক্ষিণ কোরিয়া যদি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে অংশ নেয়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের স্বার্থ ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মুখে পড়বে।
মারান্দি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরীয়রা যদি ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে অংশ নেয়, তবে ইরান তাদের শত্রু হিসেবে দেখবে। এই অঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়ার যে সমস্ত সম্পদ রয়েছে, ইরান তা ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। এই হামলার লক্ষ্যবস্তু কেবল সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারে অবস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানতে পারে ইরান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য নৌ সেনা ও সামরিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করছে সিউল। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জানায়, সামরিক অংশগ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন সাধারণ বিকল্প (যুদ্ধকালীন অংশগ্রহণ, যুদ্ধবহির্ভূত ভূমিকা বা তল্লাশি অভিযান) আলোচনা করা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য বলছে, পি-৮ পসাইডন টহল বিমান, নৌবাহিনীর লজিস্টিক সাপোর্ট জাহাজ এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ (ইওডি) টিম পাঠানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। তবে যেকোনো সৈন্য বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর জন্য মন্ত্রিসভার প্রস্তাব এবং জাতীয় পরিষদের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সিউল যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে পূর্ণ সমর্থ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও এই প্রণালিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ দেশটি গত বছর তাদের অপরিশোধিত তেল আমদানির ৬১ শতাংশ এবং ন্যাপথা আমদানির ৫৪ শতাংশ এই পথ দিয়েই সংগ্রহ করেছে।
সাক্ষাৎকারে মারান্দি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার দুই-একটি জাহাজ পাঠানো সংঘাতের সমীকরণ খুব একটা বদলাতে পারবে না। কিন্তু এতে অংশ নিলে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক