মোজতবা খামেনি আহত হলেও মানসিকভাবে তীক্ষ্ন ও সক্রিয় : নিউইয়র্ক টাইমস
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হলেও মানসিকভাবে ক্ষুরধার সক্ষমতার অধিকারী বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। ওই হামলায় তার বাবা এবং পূর্বসূরি আলী খামেনি নিহত হন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি আপাতত ইরানের বিপ্লবী গার্ডের জেনারেলদের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে রেখেছেন। বাবার উত্তরসূরি হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি এবং কেবল লিখিত বিবৃতি জারি করেছেন। ফলে তার শারীরিক অবস্থা এবং তিনি আদৌ জীবিত কি না, তা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, যদিও মোজতবা খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, তবে তিনি মানসিকভাবে বেশ তীক্ষ্ণ এবং সক্রিয় রয়েছেন।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার একটি পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তিনি একটি কৃত্রিম অঙ্গ লাগানোর অপেক্ষায় আছেন। তার এক হাতেও অস্ত্রোপচার হয়েছে এবং তিনি ধীরে ধীরে সেটির কার্যক্ষমতা ফিরে পাচ্ছেন। তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, যার ফলে তার পক্ষে কথা বলা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আগামীতে তার প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হবে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে মোজতবা খামেনির কাছে খুব কম মানুষই পৌঁছাতে পারে। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং কেবল তার হাতে লেখা বার্তাগুলোই বাইরে পাঠানো হচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডাররা মোজতবা খামেনির সঙ্গে দেখা করতে যান না, তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার চিকিৎসার তদারকিতে যুক্ত রয়েছেন। পেজেশকিয়ান পেশায় একজন হার্ট সার্জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিপ্লবী গার্ডের জেনারেলরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে এই যুদ্ধকে শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকার জন্য একটি হুমকি হিসেবে দেখতেন, যা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে সামরিক কৌশল এবং হরমুজ প্রণালি অবরোধের মতো বিষয়গুলো এই জেনারেলরাই পরিচালনা করছেন।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক