হান্টাভাইরাসের প্রকোপে পড়া ক্রুজ শিপ ভিড়ছে স্পেনের বন্দরে
হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়া বহুল আলোচিত ডাচ পতাকাবাহী ক্রুজ শিপটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ সমুদ্রে আটকে থাকার পর জাহাজটি সেখানে ১৪০ জন যাত্রী ও ক্রুকে নামিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে যাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
ডাচ পতাকাবাহী এমভি হোন্ডিয়াস নামক এই জাহাজে অন্তত আটজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। জাহাজটি আগামীকাল রোববার (১০ মে) ভোরে পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলের কাছে স্পেনের তেনেরিফে দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। খবর আলজাজিরার।
স্পেনের জরুরি পরিষেবা প্রধান ভার্জিনিয়া বারকোনস জানিয়েছেন, যাত্রীদের একটি ‘সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন এবং ঘিরে রাখা এলাকায়’ নিয়ে যাওয়া হবে। এএফপি-র বরাত দিয়ে স্প্যানিশ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সমন্বয়ে সহায়তা করতে দ্বীপটিতে নিজে উপস্থিত থাকবেন।
জাহাজটিতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং জাহাজ ছেড়ে যাওয়া পাঁচজন যাত্রীও হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস শুক্রবার জানিয়েছে, জাহাজে বর্তমানে সংক্রমণের উপসর্গ থাকা কোনো ব্যক্তি নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রাদুর্ভাব থেকে সাধারণ জনগণের জন্য তৈরি হওয়া ঝুঁকিকে ‘নিম্ন’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
ডব্লিউএইচও-র মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেন, এটি নতুন কোনো কোভিড নয়। এই ভাইরাসটি এত বেশি সংক্রামক নয় যে সহজে একজনের থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়বে।
হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর বিষ্ঠার সংস্পর্শে ছড়ায় এবং মানুষের মধ্যে এটি সহজে সংক্রমিত হয় না। তবে এই প্রাদুর্ভাবে শনাক্ত হওয়া ‘আন্দেস ভাইরাস’ বিরল ভাবে হলেও মানুষের মধ্যে ছড়াতে সক্ষম। সাধারণত ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার এক থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়।
চারটি মহাদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সেই দুই ডজনেরও বেশি যাত্রীর ওপর নজরদারি চালাচ্ছে যারা ২ মে প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার আগেই জাহাজ থেকে নেমে গিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
কিছু স্প্যানিশ বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যাত্রীদের এই আগমন দ্বীপে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ‘ইউস্তিতিয়া ইউরোপা’ নামক একটি স্প্যানিশ গোষ্ঠী এমভি হোন্ডিয়াসকে স্পেনের উপকূলে ভিড়তে বাধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা এক্সে পোস্ট করে বলেছে, ‘ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপের স্বাস্থ্য গবেষণাগার হতে পারে না... অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে আমরা স্বচ্ছতা ও সুরক্ষা দাবি করছি।’
এ প্রসঙ্গে তেনেরিফের একজন বার মালিক আল জাজিরাকে বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে এই জাহাজটিই শহরের আলোচনার প্রধান বিষয়। আমাদের কিছুটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত, তবে আশা করি তারা বিষয়গুলো নিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ উপায়ে সামাল দেবে।’
জাহাজটির কয়েকজন স্প্যানিশ যাত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ডাঙায় নামার পর তারা সামাজিকভাবে বর্জিত হতে পারেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী বলেন, ‘খবরগুলো দেখে আমরা আতঙ্কিত, মানুষ আমাদের কীভাবে গ্রহণ করবে তা নিয়ে আমরা ভীত। অনেকে ভুলে যাচ্ছেন যে এখানে ১৪০ জন মানুষ রয়েছেন।’
স্প্যানিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটি তেনেরিফে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে বাসে তোলা হবে এবং তা করা হবে কেবল তাদের নিজ দেশে ফেরার বিমান প্রস্তুত হওয়ার পর। এরপর তাদের সুরক্ষিত এবং আলাদা যানবাহনে করে নিয়ে যাওয়া হবে এবং বিমানবন্দরের যে অংশ দিয়ে তারা যাতায়াত করবেন তা সাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক