ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরু
পারস্য উপসাগরে ইরানের সবগুলো বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ঘোষিত সামরিক নৌ অবরোধ শুরু হয়েছে। ইরানের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিট থেকে এই অবরোধ শুরু হয়।
ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জাহাজগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি এই জাহাজগুলোর কোনোটি উপসাগরে আমাদের অবরোধের কাছাকাছি কোথাও আসে, তবে সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।’ খবর আলজাজিরার।
এদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তেহরান। সেই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের কোনো বন্দর আক্রান্ত হলে এই অঞ্চলের কোনো বন্দরই আর নিরাপদ থাকবে না।
ইরানি সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যাতায়াতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধিনিষেধ সরাসরি অপরাধ। তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরে ইরানের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলের ওপর পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যত বিভক্ত করে ফেলেছে। ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইরানের তেলের বড় আমদানিকারক দেশ চীন এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে একে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে। বেইজিংয়ের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও অবাধ প্রবাহ বজায় রাখা বৈশ্বিক স্বার্থেই জরুরি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যেও এ নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র মতভেদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রিটেন এই মার্কিন অবরোধে যোগ দেবে না এবং তারা কোনোভাবেই নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়।
একইভাবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই পুরো পরিস্থিতিকে একটি ‘অধঃপতনের চক্র’ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। মূলত ন্যাটোর অনেক মিত্র দেশই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সংঘাতময় পথে হাঁটার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক