এমবাপ্পেকে ছাড়াই জয় ফ্রান্সের, শেষ মুহূর্তে নায়ক ওলিসে
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতে তখন আর কয়েক মিনিট বাকি। গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোনো দলই। একের পর এক আক্রমণ করেও ফ্রান্স যখন জালের দেখা পাচ্ছিল না, তখনই বদলি হিসেবে মাঠে নামা মাইকেল ওলিসে হয়ে উঠলেন ম্যাচের নায়ক। তার দুর্দান্ত এক গোলেই শেষ মুহূর্তে বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ফ্রান্স।
এমবাপ্পেকে ছাড়া খেলতে নামা ফ্রান্স অবশ্য শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। ম্যাচে দুবার পোস্টে বল লাগার পাশাপাশি একবার গোললাইন থেকেও বল ফিরিয়ে দেয় বেলজিয়াম। অন্যদিকে ফ্রান্সকে পিছিয়ে পড়া থেকে বাঁচান গোলরক্ষক মাইক মাইনিওঁ। সব মিলিয়ে ম্যাচের বেশির ভাগ সময়ই ছিল উত্তেজনায় ভরা।
৮৮ মিনিটে সেই উত্তেজনার অবসান ঘটান ওলিসে। রায়ান শেরকির ক্রস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর গতি বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। বক্সের ভেতর ঢুকে দুই ডিফেন্ডারের বাধা পেরিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। তার গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফ্রান্স।
জিনেদিন জিদানের অধীনে এটি ফ্রান্সের টানা দ্বিতীয় জয়। দুই ম্যাচেই ১-০ ব্যবধানে জয় পেল দলটি।
তুরস্কের বিপক্ষে আগের ম্যাচে জেতা দলটিতে পরিবর্তন আনা ছিল অনেকটাই অনিবার্য। সেই ম্যাচে চোট পাওয়া কিলিয়ান এমবাপ্পে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে যান। তবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জিদান একাদশে আনেন বড় ধরনের পরিবর্তন। আগের ম্যাচের দল থেকে নয়জনকে বাদ দিয়ে নতুনদের সুযোগ দেন তিনি।
এই ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে অভিষেক হয় আঁদি দিউফ, জেহেমি জ্যাকে ও লুকা দা কুইয়ার। ২০১০ সালের আগস্টের পর এবারই প্রথম ফ্রান্সের কোনো ম্যাচে একসঙ্গে তিন বা তার বেশি খেলোয়াড়ের অভিষেক হলো।
এমবাপ্পে না থাকলেও ফ্রান্সের আক্রমণে শুরু থেকেই ছিল গতি। ম্যাচের ১২ মিনিটে বেলজিয়ামের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন দেজিরে দুয়ে। তবে তাঁর সেই প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও একটি সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। বেলজিয়ামের বক্সে ব্রাডলি বারকোলা পড়ে গেলে পেনাল্টির দাবি তোলে ফ্রান্স। কিন্তু রেফারি সেই আবেদনে সাড়া দেননি।
বিরতির পরও ফ্রান্স আক্রমণ চালিয়ে যায়। তবে গোল না আসায় জিদান ধীরে ধীরে নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়দের মাঠে নামাতে থাকেন। ৬৭ মিনিটে উসমান দেম্বেলেকে নামানোর পর ৭৭ মিনিটে মাঠে পাঠান রায়ান শেরকি ও মাইকেল ওলিসেকে।
এরপর ম্যাচে কিছুটা ছন্দ ফিরে পায় বেলজিয়ামও। ৭৩ মিনিটে প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে শট নেয় স্বাগতিকরা। দদি লুকেবাকিওর শটটি গোলমুখে বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও মাইনিওঁ এগিয়ে এসে তা আটকে দেন।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন ফ্রান্সের বদলি খেলোয়াড়েরাই। ৮৮ মিনিটে শেরকির ক্রস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলেন ওলিসে। বক্সে ঢোকার পর তাঁকে থামাতে এগিয়ে আসে আরও দুই বেলজিয়ান খেলোয়াড়। কিন্তু তাঁদের বাধা টপকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।
গোলের পর জিদানের উদ্যাপনেও ফুটে ওঠে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ সময় গোলের জন্য অপেক্ষার পর শেষ মুহূর্তে পাওয়া এই গোলই এনে দেয় ফ্রান্সকে মূল্যবান জয়।
ম্যাচে মোট ১৮টি শট নেয় ফ্রান্স, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বেলজিয়ামের ১২টি শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে ছিল। আর সেই দুটি শটই এসেছে ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে।
উয়েফা নেশনস লিগ ‘এ’ গ্রুপে দুই ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স। বেলজিয়াম ও ইতালির সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট করে। দুই ম্যাচে কোনো পয়েন্ট না পাওয়া তুরস্ক রয়েছে টেবিলের চতুর্থ স্থানে।

স্পোর্টস ডেস্ক