শেষ ১৪ মিনিটের ঝড়ে বেলজিয়ামকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স
একসময় মনে হচ্ছিল, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ফ্রান্সের রাতটা বুঝি হতাশাতেই শেষ হতে যাচ্ছে-- পিছিয়ে থাকা স্কোরলাইন আর গোলের দেখা না পাওয়া সেই শঙ্কাকেই বাড়িয়ে দিচ্ছিল। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স। এমন শুরু খুব একটা অস্বাভাবিকও ছিল না, কারণ সর্বশেষ আট ম্যাচের কোনোটিতেই প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের দেখা পায়নি দলটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৩০ মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন সমতা ফেরাতে পারেনি ফ্রান্স, তখন ফরাসি ডাগআউটে দুশ্চিন্তা বাড়তেই থাকে। একসময় মনে হচ্ছিল, ১১ বছর পর আবারও বেলজিয়ামের কাছে হারের তিক্ত স্বাদ পেতে যাচ্ছে ফ্রান্স।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি। বরং ম্যাচের শেষদিকে মাত্র ১৪ মিনিটের এক দুর্দান্ত ঝড়ে পুরো চিত্রই বদলে দেয় ফ্রান্স। ৭৭ মিনিট থেকে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটের মধ্যেই চার গোল করে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচকে ৪-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় ফরাসিরা। এই প্রত্যাবর্তনের মূল কারিগর মাইকেল ওলিসে। জোড়া গোল করেন তিনি, আর একটি করে গোল আসে দেজিরে দুয়ে ও রায়ান শেরকির পা থেকে। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি করেন দদি লুকবাকিও।
ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের সূচনা হয় ৭৭ মিনিটে। লুকাস দা কুনহার পাস পেয়ে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল নিয়ন্ত্রণে নেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা দেজিরে দুয়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘুরে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন নিচের ডান কোণে। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক মর্তেন ভানদেভুর্টের কিছুই করার ছিল না। ১-১ গোলে সমতায় ফিরে ম্যাচে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে ফ্রান্স।
সমতাসূচক গোলের মাত্র চার মিনিট পরেই ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এবারও বদলি খেলোয়াড়দের অবদান। ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে বাইলাইন পর্যন্ত উঠে ওলিসে পাস বাড়ান শেরকির দিকে। প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন শেরকি। বল বেলজিয়ান গোলরক্ষকের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
৮৫ মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। কর্নার থেকে আসা বলে নিকোলাস এনগয়ের সামনে ভালো একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তার নেওয়া শট নিয়ন্ত্রণে না থাকায় বল পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় ফ্রান্সের হাতে।
৮৮ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান ওলিসে। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে একাধিক বেলজিয়ান খেলোয়াড়ের চাপের মধ্যেও বল বাড়িয়ে দেন দুয়ের দিকে। দুয়ে আবার নিখুঁতভাবে বল ফিরিয়ে দেন ওলিসেকে। এরপর গোলের সামনে দিয়ে বলটিকে দূরের পোস্টের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন ওলিসে। ফ্রান্স তখন ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই আসে ম্যাচের শেষ গোল। আবারও সামনে সেই ওলিসে ও দুয়ে জুটি। শেরকির দূরপাল্লার পাস বুক দিয়ে নামিয়ে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের পেছনে ওলিসের জন্য বল বাড়িয়ে দেন দুয়ে। প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন ওলিসে। বল ভানদেভুর্টের পায়ের নিচ দিয়ে জালে ঢুকে যায়। ৪-১। মাত্র ১৪ মিনিটের ঝড়েই ফ্রান্স ম্যাচের সব হিসাব পাল্টে দেয়।
অথচ ফ্রান্সের প্রথম গোলের আগ পর্যন্ত ম্যাচের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। বল দখলে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ফরাসিরা। বরং ৩৫ মিনিটে রোমিও লাভিয়ার দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান লুকবাকিও। বেলজিয়াম তখন এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।
পিছিয়ে পড়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সেই ব্যবধান ঘোচাতে পারেনি ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলে ও ব্রাডলি বার্কোলা সুযোগ তৈরি করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে ওলিসে ও শেরকিকে এবং ৭২ মিনিটে দুয়েকে মাঠে নামান ফ্রান্সের কোচ। শেষ পর্যন্ত এই তিন বদলিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বদলি হিসেবে নেমেই গোল ও অ্যাসিস্টে ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনজনই।
এই জয়ের ফলে নেশনস লিগের গ্রুপ-১-এর শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে ফ্রান্স। চার ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। অন্যদিকে, এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের কাছে হেরে বেলজিয়াম নেমে গেছে তিন নম্বরে, তাদের পয়েন্ট ৬। ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি।

স্পোর্টস ডেস্ক