ক্যারিয়ারের শেষবেলায় ব্যাটিংয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ কোহলির
ক্যারিয়ারের শেষবেলায় এসেও বিরাট কোহলি যেন থামার কোনো নামই নিচ্ছেন না। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, ততই নতুন নতুন রেকর্ড নিজের করে নিচ্ছেন ভারতের এই তারকা ব্যাটার। ৩৭ বছর পেরিয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই দশকের বেশি সময় কাটানো কোহলির ব্যাটিংয়ের ক্ষুধা যেন আগের চেয়েও তীব্র। একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামকে আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন।
ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করে সেই তালিকায় এবার নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন কোহলি। শচীন টেন্ডুলকারের পর ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সবচেয়ে দ্রুত ১৫ হাজার ওয়ানডে রান পূর্ণ করার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন ভারতীয় এই ব্যাটার।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের এসব মাইলফলক কখনোই কোহলির কাছে মূল লক্ষ্য নয়। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের সেরাটা দেওয়াই বরাবর তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত সাফল্য আসে সেই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালনের স্বাভাবিক ফল হিসেবেই।
ভারতের তিরুভানন্তপুরমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নিজের রেকর্ডের খাতায় আরও একটি অধ্যায় যোগ করেন কোহলি। ৮৮ বলে ১০টি চার ও ৯টি ছক্কার সাহায্যে ১৩৯ রানে অপরাজিত থেকে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। তার দাপুটে ইনিংসেই যেন দেখা মেলে ওয়ানডেতে নতুন এক আগ্রাসী কোহলির।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৯৬ রানের লক্ষ্য ভারত পেরিয়ে যায় ৮ উইকেট হাতে রেখেই। দলের জয়ে বড় অবদান রাখা কোহলির এই ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী মাধ্যমকে কোহলি জানান, ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে তিনি কখনো আলাদাভাবে ভাবেন না। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করাই তার মূল লক্ষ্য। আর সেখান থেকেই ব্যক্তিগত অর্জনগুলো স্বাভাবিকভাবেই আসে।
অপরাজিত ১৩৯ রানের ইনিংসের পথেই শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন কোহলি। একই সঙ্গে সবচেয়ে দ্রুত এই রান পূর্ণ করার রেকর্ডও গড়েন তিনি।
তবে মাইলফলকের চেয়েও কোহলির কাছে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ করা। তিনি বলেন, “ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিজের খেলার ধার আরও বাড়ানো এবং আক্রমণাত্মক গিয়ারে খেলার এক নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছি আমি।”
ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে ব্যাটিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন কোহলি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ের শৃঙ্খলা ধরে রেখেও কীভাবে আরও স্বাধীনভাবে ব্যাটিং করা যায়, সেটিই এখন তার মনোযোগের অন্যতম প্রধান জায়গা।
নিজের নতুন এই রূপ নিয়ে কাজ করাটা তার কাছে বেশ রোমাঞ্চকর বলেও জানান কোহলি। ক্যারিয়ারের এমন সময়ে এসে নিজের খেলার নতুন দিক আবিষ্কারের মধ্যে আলাদা আনন্দ খুঁজে পান তিনি। ভারত কিংবা আইপিএল–যে দলের হয়েই খেলুক না কেন, এই পরিবর্তন তাকে আরও স্বচ্ছন্দ ও চাপমুক্তভাবে ব্যাটিং করতে সাহায্য করছে বলে মনে করেন এই তারকা।
কোহলির ভাষায়, “ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে যখন নিজের নতুন কোনো রূপকে উন্মোচন করতে হয়, তখন একটা আলাদা রোমাঞ্চ কাজ করে। শেষ পর্যন্ত যে দলের হয়েই খেলি না কেন– তা সে ভারতই হোক কিংবা আইপিএল–কাজে দেবে। একদম চাপমুক্ত মনে খেলার ক্ষেত্রে এটি আমাকে দারুণ সাহায্য করেছে, আর আমার মনে হয় এখন এটাই আমার জন্য কাজ করছে।”
তবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট মানেই বেপরোয়া ব্যাটিং নয়--এটিও স্পষ্ট করেছেন কোহলি। বরং পরিকল্পনাকে মাঠে নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শারীরিক ফিটনেসকে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, ফিটনেসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেই মাঠে নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে ভাবা এবং সঠিক সময়ে তা কার্যকর করা সম্ভব।
রেকর্ডের পর রেকর্ড ছুঁয়ে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসেও তাই থামছেন না কোহলি। বরং নিজের ব্যাটিংকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে আরও আগ্রাসী, আরও স্বাধীন এক সংস্করণ সামনে আনার চ্যালেঞ্জেই এখন মগ্ন ভারতের এই তারকা।

স্পোর্টস ডেস্ক