হাইকোর্ট থেকেও হতাশ হয়ে ফিরলেন রিজওয়ান
জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) পাঠানো নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছিলেন পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। কিন্তু তার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এর তথ্য মতে, এনসিসিআই রিজওয়ানকে একটি নোটিশ দিয়েছে। যেখানে বলা ছিল, রিজওয়ানের বিপক্ষে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ে একটি তদন্ত চলছে। সেই তদন্তের ভিত্তি ও সংস্থাটির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে নোটিশটি চ্যালেঞ্জ করেছিলেন রিজওয়ান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) লাহোর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আলিয়া নিলম মোহাহম্মদ রিজওয়ানের আবেদনটির শুনানি করেন। আদালতে রিজওয়ানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী কাজী উমাইর আলী।
তিনি মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি আরও জানান, লর্ডসে টেস্ট ম্যাচের পর তার মক্কেলকে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই হোটেলের লবিতে ডেকে আনা হয়।
রিজওয়ানের আইনজীবী দাবি করেন, পিসিবির তদন্ত কমিটি তদন্তের নামে রিজওয়ানের ফোন জব্দ করেন। তিন ঘন্টার মধ্যে তার জব্দকৃত ফোন ফেরত দেয়ার কথা বলা হলেও তা ফেরত দেয়া হয়নি। এতদিন ফোন আটকে রাখা তদন্তকারী সংস্থার অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়।
পিসিবির সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি জানান, কোনো ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি দেখার উপযুক্ত জায়গা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট। তবে পিসিবি রিজওয়ানের ব্যাপারে কোনো বিষয় এখনও আইসিসি পর্যন্ত পাঠায়নি বলে দাবি তার।
শুনানির সময় মামলার প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে না আনায় আইনজীবীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি আলিয়া নিলম। তিনি বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর এনসিসিআইএ রিজওয়ানকে তলব করেছিল এবং তিনি সেই নোটিশে সাড়াও দিয়েছিলেন।
আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনাদের ১০ সেপ্টেম্বর ডাকা হয়েছিল এবং আপনারা তাতে সাড়া দিয়েছেন। তাহলে এখন আদালতে কেন এসেছেন?’
পরে আইনজীবীকে এনসিসিআইএ-এর কার্যালয়ে গিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। বিচারপতি আরও বলেন, ‘সেখানে যান, তাদের সঙ্গে কথা বলুন এবং নোটিশের জবাব দিন।’ এরপর রিজওয়ানের আবেদনটি খারিজ করে দেন আদালত।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর লাহোরের জোহর টাউনে এনসিসিআইএ-এর কার্যালয়ে হাজির হয়েছিলেন রিজওয়ান ও পাকিস্তানের টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হক। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুম থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচ চলাকালীন সময়ে তাদের সঙ্গে কাদের যোগাযোগ কিংবা সাক্ষাৎ হয়েছে, সেই ব্যাপারে তদন্তকারীরা প্রশ্ন করেন। তাদের দুইজনের ফোনের ফরেনসিক ও কারিগরি বিশ্লেষণসহ তাদের আর্থিক লেনদেন ও সন্দেহজনক কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এনসিসিআইএ। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো ফলাফল জানায়নি তারা।

স্পোর্টস ডেস্ক