গোল উৎসবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান শুরু বার্সেলোনার
মাঠে নামলেই যেন প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে দেওয়ার পণ করেছে বার্সেলোনা। হান্সি ফ্লিকের দলের এই দুর্বার ও অপ্রতিরোধ্য পথযাত্রায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলনেতা রাফিনিয়া। লা লিগা থেকে এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেও সেই গোলউৎসব অব্যাহত রাখল কাতালানরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডকে রীতিমতো গোলবন্যায় ভাসিয়েছে বার্সেলোনা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যূ-তে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। কাতালানদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন অধিনায়ক রাফিনিয়া। এছাড়া বাকি তিন গোল এসেছে কারিম আদেয়েমি, লামিনে ইয়ামাল ও নতুন ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুসের পা থেকে।
পুরো ম্যাচে ডাচ দল ফেইনুর্ড কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ--একই ভাবে সফরকারীদের উপর দাপট দেখিয়েছে বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে ৭০ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২৪টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে কাতালানরা। বিপরীতে ফেইনুর্ডের নেওয়া ৪ শটের মাত্র দুটি ছিল গোলমুখে।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচ খেলে চারটিতেই প্রতিপক্ষের জালে পাঁচবার করে বল জড়াল বার্সেলোনা। এই পাঁচ ম্যাচে তাদের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টিতে। আর বার্সার রক্ষণ গলিয়ে প্রতিপক্ষ গোলপোস্ট ভেদ করতে পেরেছে মাত্র তিনবার।
মুষলধারে বৃষ্টির মাঝে শুরু হয় ম্যাচ। মাঠে নেমেই বার্সাকে এগিয়ে নেন রাফিনিয়া। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়িয়ে দেওয়া উঁচু বল প্রথম ছোঁয়ায় ইয়ামাল ঠেলে দেন রাফিনিয়ার দিকে। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ সামলে নিখুঁত টোকায় ডি-বক্সে ঢুকে দারুণ শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন রাফিনিয়া। এর আগে লা লিগার প্রথম চার রাউন্ডেই তার নামের পাশে ছিল ছয়টি গোল।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ বজায় রেখে আরেকটি দৃষ্টিনন্দন গোল আদায় করে নেয় বার্সা। বাঁ প্রান্তে জোয়াও ক্যান্সেলোর কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নেন আদেয়েমি। দূরের পোস্ট দিয়ে সরাসরি জালে আশ্রয় নেয় বল। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়লেও বলের নাগাল পাননি।
এরপর ২৪তম মিনিটে ফেইনুর্ড একটি আক্রমণ চালালেও তা কাজে লাগেনি। প্রথমার্ধের বাকি সময়েও সমানভাবে আক্রমণ করে যায় স্বাগতিকরা। তবে এই অর্ধে আর কোনো গোল আদায় করতে পারেনি তারা। ফলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতি যায় বার্সেলোনা।
বিরতিতে থেকে ফিরেও বার্সার আক্রমণের ধার কমেনি। ৫৭তম মিনিটে পেদ্রির বাড়ানো নিখুঁত থ্রু বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শট নেন রাফিনিয়া। বল গিয়ে জড়ায় জালে। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তার অষ্টম গোল। এর দুই মিনিট পরই ফেইনুর্ড জালে বল পাঠালেও ভিএআরের কল্যাণে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ থাকা রাফিনিয়াকে তুলে নিয়ে ফের্মিন লোপেসকে মাঠে নামান কোচ। বদলি হিসেবে নামার তিন মিনিটের মধ্যেই সুযোগ তৈরি করেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। যদিও তার জোরাল শট গোলরক্ষক দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন।
অবশেষে ৭৭তম মিনিটে ফেইনুর্ডের জালে বল জড়ান ইয়ামাল। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া তার ফ্রি-কিকটি প্রতিপক্ষের দুর্বল রক্ষণ দেয়াল ভেদ করে জালে জড়িয়ে যায়।
এরপর ৮২তম মিনিটে ফেইনুর্ডের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোল করেন সেম স্টেন। তবে ব্যবধান কমার আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি ডাচ দলটির। ঠিক তিন মিনিট পর আবারও গোল উৎসবে মাতে বার্সা। দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুস ডান দিক থেকে ইয়ামালের বাড়ানো ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান।
গত মঙ্গলবার আর্সেনাল ছেড়ে আসা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড বার্সেলোনার জার্সিতে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজের গোলের খাতা খুললেন। এর আগে গত রোববার ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি নেমে বার্সার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তার।
বাকি সময়ে আর কোনো গোল করতে পারেনি কোনো দলই। ফলে ৫-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

স্পোর্টস ডেস্ক