ইন্টারের আক্রমণ রুখে জয়ে মৌসুম শুরু রিয়াল মাদ্রিদের
ম্যাচের শুরুতেই দারুণ আক্রমণ শানিয়ে ইন্টার মিলান বুঝিয়ে দিয়েছিল তারা ছেড়ে কথা বলবে না। কিন্তু নিজেদের রক্ষণভাগের ভুল আর ফরোয়ার্ডদের একের পর এক সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত দিতে হলো তাদের। ইতালিয়ান জায়ান্টদের মাঠ ছাড়তে হলো হারের স্মৃতি নিয়েই। অন্যদিকে, দারুণ জয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের মিশন শুরু করল হোসো মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাতে ১টায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
বল দখলে রাখা কিংবা আক্রমণ, দুই জায়গাতেই এগিয়ে ছিল ইন্টার। ৬০ শতাংশের বেশি সময় দখলে রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। থিবো কোর্তোয়ার দারুণ সব সেভ দলটিকে দ্বিতীয় গোল পেতে দেয়নি।
ম্যাচ শুরুর তৃতীয় মিনিটেই রিয়ালকে বড় ধাক্কা দিতে পারতো ইন্টার। বারেল্লার বানানো বল ডি-বক্সের ডান প্রান্ত থেকে মার্কারকে কাটিয়ে ডান পায়ে নিচু শট নেন মার্কাস থুরাম। তবে পোস্টের ডান কোণ থেকে ঝাপিয়ে পড়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
পরের মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করেছিল ইন্টার। কর্নার ক্লিয়ার হওয়ার পর কার্লোস অগুস্তোর বাড়ানো বল ধরে ডিবক্সের বেশ কিছুটা বাইরে থেকে শট নেন হাকান চালহানোগলু। তার জোড়ালো শট পোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের ১৪তম মিনিটে ইন্টারের আক্রমণ থামিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো ডিফেন্স-চেরা থ্রু পাস ধরে ক্ষিপ্রগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইন্টারগোলরক্ষক জোসেপ মার্টিনেজকে পরাস্ত করে ডান পায়ের নিচু প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পরই সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইন্টার। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে চালহানোগলুর দূরপাল্লার বুলেট গতির শট পোস্টের ওপরের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকান কোর্তোয়া।
ম্যাচের ২৩তম মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুন করে স্বাগতিক মাদ্রিদ। বক্সে ইন্টার ডিফেন্ডাররা বল সঠিকভাবে ক্লিয়ার করতে না পারলে জটলার ভেতর ফাঁকায় বল পান ফেদেরিকো ভালভার্দে। বাঁ পায়ের ঠান্ডা মাথার আলতো প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন রিয়াল অধিনায়ক।
প্রথমার্ধেই আরও একবার ব্যবধান কমানোর চমৎকার সুযোগ পায় ইন্টার মিলান। ৩৬তম মিনিটে বক্সে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে কার্টিস জোন্স বাঁ পায়ে জোড়ালো শট নিলেও বল কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে সরাসরি ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে রিয়ালের কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এমবাপ্পে ও বেলিংহ্যামের পর পর দুটি শট সেভ করেন ইন্টার গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে ব্রাহিম দিয়াজের নেওয়া শট ডান পোস্টের বারে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান ৩-০ করার সুযোগ হাতছাড়া হয় লস ব্লাঙ্কোদের। বিরতিতে যায় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইন্টারের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের পাস থেকে ডিবক্সের ডান দিক থেকে এমবাপ্পের নেওয়া জোড়ালো শট গ্লাভস বন্দী করেন মার্টিনেজ।
ম্যাচের ৫৮ ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগ মিস করে রিয়াল। ব্রাহিম দিয়াজের ক্রসে ছয় গজ বক্সের খুব কাছে দাঁড়িয়ে জুড বেলিংহ্যামের নেওয়া নিশ্চিত গোলের শট পাঞ্চ করে বাঁচান মার্টিনেজ। ফিরতি বল থেকে ডেনজেল ডামফ্রিজের হেডার পোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়।
এরপর ৬৩তম মিনিটে পিওতর জিলিনস্কির পাসে বাসটোনির দূরপাল্লার শট রুখে দেন কোর্তোয়া। ৬৭তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো বলে এমবাপ্পের জোড়ালো শট আটকান ইন্টার গোলরক্ষক মার্টিনেজ।
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ হাতছাড়া করে ইন্টার। পেতার সুচিচের ক্রসে বক্সের মাঝখান থেকে লাউতারো মার্টিনেজের নেওয়া চমৎকার হেডার পোস্টের ডান দিক দিয়ে সামান্য বাইরে চলে যায়।
রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণের ফলাফল আসে ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে। বক্সে লাউতারো মার্টিনেজের বাড়িয়ে দেওয়া পাসে কার্লোস অগুস্তো ডান পায়ের শটে কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-১ করেন।
ম্যাচের ৮১তম মিনিটে বদলি নামা ইয়ান দিওমান্দে ডান প্রান্তের দূরহ কোণ থেকে পোস্ট লক্ষ্য করে জোড়ালো শট নিলেও তা পাঞ্চ করে বের করে দেন ইন্টার গোলরক্ষক মার্টিনেজ।
সমতায় ফিরতে শেষ মুহূর্তে অলআউট আক্রমণ চালায় ইন্টার। ৮৯তম মিনিটে পেতার সুচিচের পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে মাখিতারিয়ানের নেওয়া বাঁ পায়ের বাঁকানো শট দারুণ দক্ষতায় আটকান কর্তোয়া। বাকি সময়ে আর কোনো দল গোল করতে না পারলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

স্পোর্টস ডেস্ক