বাংলাদেশে ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ ভুগছেন, দাবি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল কোচের
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোন্স। আসন্ন এশিয়ান কাপ বাছাইকে কেন্দ্র করে তার অধীনে ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসে একের পর এক অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন এই ইংলিশ কোচ।
চলাচলের সময় গাড়িতে ধাক্কা দেওয়া, গাড়ি ঘিরে ধরে টাকা চাওয়া এবং ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে এক পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, ইংল্যান্ডে স্ত্রী-সন্তানের কাছে টাকা পাঠাতে পারছেন না তিনি। সেটির সমাধান হলেও নতুন এক জটিলতায় পড়েছেন বলে আবারও অবিযোগ করেছেন তিনি।
জেরার্ড বলেন, ‘যদিও টাকা পৌঁছেছে, কিন্তু অন্যান্য চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে এবং এমন কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা আমাকে আগে জানানো হয়নি। আমার কিছু ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য যেভাবে আদান-প্রদান ও শেয়ার করা হয়েছে, তা নিয়ে আমার গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’
স্ত্রী ও তিন সন্তানকে যুক্তরাজ্য রেখে বাংলাদেশে একা কাজ করতে আসার কষ্টের কথা জানিয়ে জেরার্ড বলেন, ‘পরিবারকে দূরে রাখাটাই বড় কষ্টের। গতকাল ঢাকায় এবং আজ আমি এমন কিছু পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, যা আমাকে চরম অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।’
নিরাপত্তাহীনতার কারণ উল্লেখ করে বাংলাদেশের নতুন এই কোচ বলেন, ‘ঢাকায় চলাচলের সময় কিছু মানুষ এসে গাড়িতে ধাক্কা দেয়, গাড়ি ঘিরে ধরে এবং টাকা চায়। এ ছাড়া বহুবার মানুষ ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এসে আর্থিক সাহায্য চেয়েছে।’
বাংলাদেশে এসে নিজেকে একা মনে হচ্ছে এবং আতঙ্কিত বলে জানিয়েছেন তিনি। জেরার্ডের ভাষায়, ‘এখানে সহানুভূতি জানানোর মতো কাউকে না পেয়ে আমি নিজেকে ভীষণ একাকী মনে করছি। আমি আতঙ্কিত ও ভীত, দিশেহারা, অরক্ষিত এবং একা অনুভব করছি। আমি আশা করছি, সবকিছু দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। কারণ, আমি শুধু কোনো চিন্তা ছাড়া আমার কাজটুকু করে যেতে চাই।’
এদিকে কোচের এমন উদ্বেগের বিষয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘পোস্টটি আমরা দেখেছি, বিষয়টি দুঃখজনক। তবে সবার বাক্স্বাধীনতার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। পুরো বিষয়টি তিনি ভুলভাবে উপস্থাপন করায় এটি দুর্ভাগ্যজনক রূপ নিয়েছে। তারপরও দ্রুতই এর সমাধান হচ্ছে।’
কোচের নিরাপত্তার বিষয়ে বাফুফে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না— এমন প্রশ্নে তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে ফেডারেশন কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেবে না এবং বিষয়টি এড়িয়ে চলবে। তবে কোচের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্বেগ থাকলে তিনি তা সরাসরি বাফুফেকে জানাতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে পরিবারকে টাকা পাঠানো নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কোচের বেতন ইতিমধ্যেই তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। তবে কর সংক্রান্ত কিছু নিয়মের কারণে সেই টাকা পরিবারের কাছে পাঠাতে সামান্য সময় লাগছে।

স্পোর্টস ডেস্ক