কীসের ভিত্তিতে মিলবে ব্যালন ডি’অর? ধোঁয়াশা কাটাল কর্তৃপক্ষ
বিশ্বকাপের মঞ্চে সাফল্য একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সেটিই কি ব্যালন ডি’অরের সোনালি বল জয়ের নিশ্চয়তা? বিশ্বকাপ পরবর্তী উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যেই পুরস্কারের প্রকৃত মূল্যায়ন পদ্ধতি সামনে এনে ধোঁয়াশা দূর করেছে ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ।
তাদের স্পষ্ট বার্তা, একটি টুর্নামেন্টের সাফল্য নয়, বরং পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, দলের হয়ে প্রভাব বিস্তার এবং ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মানের মালিক।
সম্প্রতি ব্যালন ডি’অরের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ, বিশ্বকাপ জয় একজন খেলোয়াড়কে এগিয়ে রাখে, কিন্তু এটি ব্যালন ডি’অর নিশ্চিত করে না। এই পুরস্কার জিততে হলে পুরো মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় হতে হবে, শুধু বিশ্বকাপের নয়।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছে কর্তৃপক্ষ।
১৯৫৬ সালে যাত্রা শুরু করা ব্যালন ডি’অর বর্তমানে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। ২০২২ সাল থেকে এর মূল্যায়ন পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। আগে একটি ক্যালেন্ডার বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হলেও এখন একটি পূর্ণ মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। ফলে ক্লাব ও জাতীয় দল, উভয় পর্যায়ে একজন ফুটবলারের ধারাবাহিক অবদান মূল্যায়নের কেন্দ্রে থাকে।
ভোটের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। প্রথমত, একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, পরিসংখ্যান এবং ম্যাচে তার প্রভাব বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয়ত, দলীয় সাফল্য এবং মৌসুমজুড়ে জেতা শিরোপা বিবেচনা করা হয়। তৃতীয়ত, মাঠে তার নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব ও ক্রীড়াসুলভ আচরণ। অর্থাৎ শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যা নয়, একজন ফুটবলারের সামগ্রিক প্রভাবই বিবেচনায় রাখা হয়।
ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্বাচন করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা। পুরুষদের বিভাগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০ দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। তারা মনোনীত ৩০ ফুটবলারের মধ্যে নিজেদের সেরা ১০ জনকে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। প্রথম পছন্দের জন্য ১৫, এরপর যথাক্রমে ১২, ১০, ৮, ৭, ৫, ৪, ৩, ২ ও ১ পয়েন্ট দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী ফুটবলারই জিতে নেন ব্যালন ডি’অরের সোনালি বল।
ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স অনেক সময় ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে। ১৯৯৮ সালে জিনেদিন জিদান, ২০০২ সালে রোনালদো নাজারিও, ২০০৬ সালে ফাবিও কানাভারো এবং ২০১৮ সালে লুকা মদরিচ বিশ্বকাপে স্মরণীয় নৈপুণ্য দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। আবার এমন অনেক উদাহরণও রয়েছে, যেখানে বিশ্বকাপ না জিতেও পুরো মৌসুমে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ফুটবলাররা এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নিজেদের করে নিয়েছেন।
তাই ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক বার্তা আবারও মনে করিয়ে দিল। বিশ্বকাপ একজন ফুটবলারের দাবিকে শক্তিশালী করতে পারে। কিন্তু সোনালি বলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত লেখা হয় আরও দীর্ঘ এক যাত্রাপথে। ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব, বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য এবং দলীয় সাফল্যে নির্ধারক অবদানই শেষ পর্যন্ত একজন ফুটবলারকে পৌঁছে দেয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্মানের শিখরে।

স্পোর্টস ডেস্ক