১৬ বছরের জয়খরা কাটানোর মিশনে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি স্পেন
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যেন অঘটনের আরেক নাম। একের পর এক শক্তিশালী দল বিদায় নেওয়ায় প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠেছে অনিশ্চয়তার গল্প। সেই গল্পে নতুন অধ্যায় যোগ হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শেষ ৩২- এর লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও দীর্ঘ ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফেরা অস্ট্রিয়া।
গ্রুপ এইচের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে উঠেছে স্পেন। শেষ ম্যাচে অ্যালেক্স বায়েনার একমাত্র গোলে উরুগুয়েকে হারিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। এর আগে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলেও কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে কিছুটা হতাশ করেছিল তারা। ফলে নকআউটে আবারো নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে মুখিয়ে আছে লা রোহারা।
স্পেনের সামনে এবার শুধু পরের রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্যই নয়। রয়েছে দীর্ঘ দিনের এক আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগও। ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনো নকআউট ম্যাচ জেতেনি স্প্যানিশরা। ২০১৮ সালে রাশিয়ার কাছে এবং ২০২২ সালে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। সেই হতাশার অধ্যায় এবার শেষ করতে চায় দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
তবে স্পেনের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে তাদের ভারসাম্যপূর্ণ দল। মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইস যেমন খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন, তেমনি লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের গতি যেকোনো রক্ষণকে ভেঙে দিতে সক্ষম। রক্ষণেও দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখিয়েছে স্পেন। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত টানা চার ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি তারা।
অন্যদিকে, অস্ট্রিয়ার জন্য এটি শুধু একটি নকআউট ম্যাচ নয়। প্রায় সাত দশকের অপেক্ষার অবসানের মুহূর্তও। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলতে নামছে তারা। সেই আসরেই সুইজারল্যান্ডকে ৭-৫ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচের অংশ হয়েছিল অস্ট্রিয়া। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় স্থান নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল তারা।
রালফ রাংনিকের দল জানে, তাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তবে এবারের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই একের পর এক অঘটন ঘটেছে। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দল বিদায় নেওয়ার পর অস্ট্রিয়ার বিশ্বাসও বেড়েছে। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তারাও চমক দেখাতে পারে।
তবে অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা রক্ষণভাগ। ১৯৮২ সালের পর বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচেই ক্লিন শিট রাখতে পারেনি তারা। স্পেনের দ্রুতগতির আক্রমণের বিপক্ষে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানও স্পেনের পক্ষেই কথা বলে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত লা রোহা। চারটিতে জিতেছে, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ দেখায় ১৯৭৮ সালে ২-১ গোলে জিতেছিল অস্ট্রিয়া। সেই স্মৃতিই হয়তো বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে রাংনিকের দলকে।
কাগজেকলমে স্পেন এগিয়ে থাকলেও নকআউট ফুটবলে অতীতের হিসাব সব সময় মেলে না। তাই শেষ ষোলোর টিকিটের এই লড়াইয়ে স্পেনকে খেলতে হবে নিজেদের সেরাটা, আর অস্ট্রিয়াকে লড়তে হবে নতুন ইতিহাস লেখার প্রত্যয়ে।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
স্পেন: উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, পাও কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস, পেদ্রি, লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারসাবাল, নিকো উইলিয়ামস।
অস্ট্রিয়া: প্যাট্রিক পেনৎস, স্টেফান পোশ, কেভিন ডানসো, ডেভিড আলাবা, ফিলিপ মভেনে, নিকোলাস সেওয়াল্ড, কনরাড লাইমার, মার্সেল সাবিৎসার, প্যাট্রিক উইমার, মার্কো আর্নাউতোভিচ, মাইকেল গ্রেগরিশ।

স্পোর্টস ডেস্ক