৪৫ বছর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল নরওয়ে
সময়টা ১৯৮১ সাল। ফুটবলের মঞ্চে তখন ইংল্যান্ড ছিল অন্যতম পরাশক্তি। তাদের হারানো ছিল অনেক দলের কাছেই স্বপ্নের মতো। কিন্তু সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দিয়েছিল নরওয়ে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য সেই জয় শুধু একটি অঘটনের গল্প হয়ে থাকেনি। জন্ম দিয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ধারাভাষ্যেরও। চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই আবেগমাখা কণ্ঠ আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে অমলিন।
শেষ বাঁশি বাজতেই আনন্দে ভেসে যান নরওয়ের রেডিও ধারাভাষ্যকার বিয়োরগে লিলেলিয়েন। উচ্ছ্বাসভরা কণ্ঠে তিনি বলতে শুরু করেন, ‘আমরাই বিশ্বের সেরা। আমরা ফুটবলে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছি।’ এরপর তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মার্গারেট থ্যাচার, আপনি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছেন? আপনার ছেলেরা ভয়ানকভাবে হার খেয়েছে!’ এই একটি বাক্যই পরে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ধারাভাষ্য হয়ে যায়।
তবে শুধু এটুকুতেই থেমে থাকেননি লিলেলিয়েন। তিনি একে একে উচ্চারণ করেন লর্ড নেলসন, লর্ড বিবারব্রুক, উইনস্টন চার্চিল, অ্যান্থনি ইডেন, ক্লেমেন্ট অ্যাটলি, হেনরি কুপার এবং লেডি ডায়ানার নাম। একটি ফুটবল ম্যাচ জয়ের পর এত বিখ্যাত মানুষের নাম কেন বলেছিলেন, সেই প্রশ্ন তখন থেকেই অনেকের মনে জায়গা করে নেয়।
পরে লিলেলিয়েন নিজেই এর ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সবাইকে হারিয়েছি।’ অবশ্য তিনি কোনো ব্যক্তিকে হারানোর কথা বলেননি। তার বক্তব্য ছিল, ইংল্যান্ড এমন একটি দেশ, যেখানে বিশ্বের অনেক বিখ্যাত নেতা, বীর ও প্রভাবশালী মানুষের জন্ম হয়েছে। তাই ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দ প্রকাশ করতেই তিনি প্রতীকীভাবে তাদের নাম উল্লেখ করেছিলেন।
চার দশকেরও বেশি সময় কেটে গেছে। কিন্তু বিয়োরগে লিলেলিয়েনের সেই আবেগভরা ধারাভাষ্য আজও ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে। নরওয়ে ও ইংল্যান্ডের লড়াইয়ের কথা উঠলেই আবারও মনে পড়ে সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘তোমাদের ছেলেরা ভয়ানকভাবে হার খেয়েছে।’ একটি ম্যাচের জয় হয়তো সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়ে যায়। কিন্তু সেই ধারাভাষ্য আজও ফুটবল ইতিহাসের অমলিন এক স্মৃতি।

স্পোর্টস ডেস্ক