কোথায় থামবেন এমবাপ্পে?
বিশ্বকাপের আলো যেন কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্যই আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বড় মঞ্চের চাপ তাকে বিচলিত করে না। বরং অনুপ্রাণিত করে। বল পায়ে এমবাপ্পে ছুটতে শুরু করলে মনে হয়, শিকারের পেছনে ছুটছে এক চিতা। চোখের পলকে তিনি প্রতিপক্ষকে পেছনে ফেলে দেন। তার গতি, দিক বদলের দক্ষতা আর নিখুঁত ফিনিশিং মিলিয়ে বিশ্বের সেরা রক্ষণভাগগুলোর কাছেও তিনি এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।
চলমান বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের আক্রমণের মূল ভরসা এমবাপ্পে। গ্রুপ পর্ব থেকেই তিনি খেলছেন দুর্দান্ত ছন্দে। প্রতিপক্ষের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে গোল করছেন। আবার সতীর্থদের জন্যও তৈরি করছেন সুযোগ।
শেষ ৩২-এ সুইডেনের বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে আরও একবার প্রমাণ করেছেন, বড় ম্যাচের মঞ্চে তিনিই ফ্রান্সের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। ইতোমধ্যে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন তিনি। তাকে থামানোর কৌশল যেন অজানা প্রতিপক্ষের কাছে।
বিশ্বকাপে এমবাপ্পের সাফল্যের গল্প শুরু ২০১৮ সালে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পুরো আসরে চারটি গোল করেন। ফাইনালেও করেন গোল। সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে জেতেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আবারও ইতিহাস গড়েন। আট গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট এবং বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
মাত্র দুটি বিশ্বকাপেই এমবাপ্পে নিজেকে ফুটবল ইতিহাসের বিশেষ এক জায়গায় নিয়ে গেছেন। চলমান আসরেও তিনি একই ধারায় এগিয়ে চলেছেন। তার গতি, আত্মবিশ্বাস আর গোল করার সহজাত ক্ষমতা দেখে মনে হয়, বিশ্বকাপের আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের নায়ক হওয়ার গল্প এখনও বাকি।
যদি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তবে আগামী বছরগুলোতে বিশ্বকাপের বহু রেকর্ডই নতুন করে লেখা হতে পারে এমবাপ্পের নামেই। কারণ, তার থামার নাম-নিশানা নেই। কোথায় থামবেন, সেটিও বলা ভীষণ মুশকিল।

স্পোর্টস ডেস্ক