ঘুরে দাঁড়াতে চায় পর্তুগাল, চমকের আশায় উজবেকিস্তান
বিশ্বকাপের শুরুটা ভালো হয়নি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের। তূলনামূলক দুর্বল কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করেছিল তারা। ফলে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই পর্তুগালের। সেই লক্ষ্য আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ‘কে’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হিউস্টন স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে ইউরোপের শক্তিশালী দলটি।
কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক ১-১ ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করা পর্তুগাল প্রথম জয়ের খোঁজে মাঠে নামবে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ার কাছে হেরে যাওয়া উজবেকিস্তান লড়বে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখতে। দুই দলের লক্ষ্য আলাদা হলেও ম্যাচটির গুরুত্ব সমান।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল রবার্তো মার্টিনেজের পর্তুগাল। কিন্তু নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশার ধারে কাছেও যেতে পারেনি তারা। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেস গোল করে এগিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করতে হয়। আরও হতাশার বিষয়, পুরো ম্যাচে পর্তুগালের একমাত্র অন-টার্গেট শট ছিল সেই গোলটিই। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবেও তারা পিছিয়ে ছিল— পর্তুগালের ‘এক্সজি’ ছিল ০.৬৫, যেখানে ডিআর কঙ্গোর ছিল ০.৮৭।
প্রথম ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ফলে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে বড় টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচ ধরে গোলশূন্য রয়েছেন তিনি। এই সময়ে তিনি ৩৩টি শট নিয়েছেন, যার সম্মিলিত ‘এক্সজি’ ৪.৫। কিন্তু গোলের দেখা পাননি।
শুধু তাই নয়, পেনাল্টি বাদ দিলে বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে রোনালদো টানা ১৩ ম্যাচ ধরে গোলহীন। এই সময়ে তার ৪২টি নন-পেনাল্টি শটের বিপরীতে এক্সজি ছিল ৪.৫। তাই উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে তার জন্যও আত্মপ্রমাণের একটি বড় মঞ্চ।
কঙ্গোর সঙ্গে ড্রয়ের ফলে পর্তুগালের সামনে একটি অস্বস্তিকর শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র একবারই তারা প্রথম দুই ম্যাচে জয় পায়নি। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলে হারের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা। সেই আসরেই শেষবারের মতো গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল পর্তুগালকে।
তবে পরিসংখ্যানের অন্য দিকটি পর্তুগালের জন্য ইতিবাচক। কঙ্গোর বিপক্ষে তারা বলের দখল রেখেছিল ৭৫.৪ শতাংশ সময়, যা বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এছাড়া ৭৮৩টি পাস এবং ৯২.৫ শতাংশ সফল পাসও ছিল তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন রেকর্ড।
মিডফিল্ডে ভিতিনিয়া ছিলেন দুর্দান্ত। তিনি একাই ১২১টি সফল পাস দিয়েছেন, যা এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপে কোনো পর্তুগিজ ফুটবলারের এক ম্যাচে সর্বাধিক সফল পাসের নতুন রেকর্ড।
অন্যদিকে, উজবেকিস্তান নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারলেও কিছু ইতিবাচক দিক দেখিয়েছে। ফাবিও কান্নাভারোর দলটির ম্যামে ‘এক্সজি’ ছিল ১.১৬, যা ২০১০ সালে স্লোভাকিয়ার পর কোনো দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে সর্বোচ্চ। এছাড়া ১৯৮২ সালে কুয়েতের পর কোনো অভিষিক্ত এশিয়ান দলের জন্যও এটি সর্বোচ্চ ‘এক্সজি’।
তবে ফলাফল বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বকাপের আগে কানাডার কাছে ২-০ এবং নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হারের পর কলম্বিয়ার বিপক্ষেও পরাজয় বরণ করতে হয়েছে উজবেকিস্তানকে। ফলে টানা তিন ম্যাচ হার নিয়ে তারা এই ম্যাচে নামছে।
দুই দলের ইতিহাসে এটিই প্রথম মুখোমুখি লড়াই। তবে পর্তুগালের জন্য একটি সতর্কবার্তা রয়েছে। বিশ্বকাপে এশিয়ান দলের বিপক্ষে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে তারা জয় পায়নি। ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা।
প্রথম ম্যাচের হতাশা ভুলে পর্তুগাল আজ বড় জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম বড় চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে লড়বে উজবেকিস্তান। তাই কাগজে-কলমে ব্যবধান যতই বড় হোক, মাঠের লড়াইয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় দুই দলই।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ
পর্তুগাল : দিওগো কস্তা; জোয়াও ক্যানসেলো, রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, নুনো মেন্ডেস; ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্দেজ; বের্নার্দো সিলভা, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, রাফায়েল লিয়াও।
উজবেকিস্তান : উতকির ইউসুপভ; খোজিয়াকবার আলিজোনভ, আবদুকাদির খুসানোভ, রুস্তাম আশুরমাতভ, ফাররুখ সাইফিয়েভ; ওতাবেক শুকুরভ, ওদিলজন খামরোবেকভ; আব্বাসবেক ফয়জুল্লায়েভ, জালোলিদ্দিন মাশারিপভ, ওস্তন উরুনভ; এলদোর শোমুরোদভ।

স্পোর্টস ডেস্ক