ইনফান্তিনোকে নির্বাচনে জেতাতে ‘গোপন’ চুক্তি
বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের বাইরে এবার ফুটবল বিশ্বে বড় ধরণের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচন ইস্যু। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে।
দ্যা টেলিগ্রাফ- এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে আবারো জয়ী করার জন্য গোপনে সমর্থন জোগাড়ের একটি কৌশল হাতে নিয়েছিল ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগেই ফিফার পক্ষ থেকে প্রভাবশালী ফুটবল দেশগুলোর কাছে সভাপতি ইনফান্তিনোর পরবর্তী মেয়াদের জন্য আনুষ্ঠানিক সমর্থন চাওয়া হয়। ফিফার নীতিনির্ধারকদের অতি সতর্ক ও গোপন কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সূত্রের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ফিফার সেই অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরা। এমনকি বিশ্বকাপ শুরুর পরপরই ইংল্যান্ডের পক্ষ থেকে ইনফান্তিনোর সমর্থনে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন ছিল।
তবে নাটকীয়ভাবে পুরো পরিস্থিতি পাল্টে যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক সম্পর্কের বিতর্ক প্রকাশ্যে আসায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার প্রদান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো।
এই পরিস্থিতিতে এফএ এখন বেশ অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে। তাদের সেই ‘গোপন’ সমর্থনপত্র আদৌ পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এফএ’র কর্মকর্তারা।
ফুটবল মহলের অনেকের মতে, ইনফান্তিনোর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না এফএ। কারণ, ইংল্যান্ডের সামনে অনেক বড় লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩১ সালের নারী বিশ্বকাপ আয়োজন এবং ভবিষ্যতে পুরুষদের বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে থাকতে ইংল্যান্ডের জন্য ফিফা সভাপতির আশীর্বাদ খুব জরুরি। এই কৌশলগত সুবিধার কথা চিন্তা করেই তারা ইনফান্তিনোর মতো বিতর্কিত একজন ব্যক্তিত্বের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিল।
২০১৬ সাল থেকে ফিফার শীর্ষ পদে থাকা ইনফান্তিনো ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন। ২০২৭ সালের নির্বাচনেও তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কেউ নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মূলত ইনফান্তিনোর প্রবর্তিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত সুবিধা পাওয়ার কারণে সদস্য দেশগুলো অনেকটা বাধ্য হয়েই তার অনুগত থাকছে।

স্পোর্টস ডেস্ক