বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ইরাকি ফুটবলার
দরজায় কড়া নাড়ছে গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্ব ফুটবল মহাযজ্ঞের ২৩তম আসর বসছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। তবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বকাপ শুরুর অনেকদিন আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি ও ইমিগ্রেশন বিভাগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল অনেক দেশ। এমনকি মানবাধিকার সংস্থাগুলো কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে।
তবে সেসময় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছিল, ফুটবলারদের ভিসা বা অন্য কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর আগে সেই অনাকাঙ্খিত ঘটনারই জন্ম দিল যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে ইরাক ফুটবল দল। সেখানে পৌঁছেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তাদের।
ইরাকের স্ট্রাইকার আইমেন হুসেনকে শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, দলের অফিশিয়াল আলোকচিত্রী তালাল সালাহকে দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য ইরাক দল শুক্রবার শিকাগোর বিমানবন্দরে পৌঁছালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ইরাক ফুটবল দলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে নামার পরপরই ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার আইমেন হুসেনকে আলাদা করে ফেলেন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা।
টানা সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তার মুঠোফোনও পরীক্ষা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও দলের আরেক সদস্য আলোকচিত্রী তালাল সালাহকে শেষ পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
আইমেন হুসেন ইরাক দলের অন্যতম বড় তারকা। বলিভিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফের ম্যাচে তার করা গোলেই ৪০ বছর পর ইরাক বিশ্বকাপ খেলার টিকিট কেটেছে। এমন একজন তারকা খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিমানবন্দরে এমন আচরণে ইরাকি সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ইরাক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা হুসেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও এ নিয়ে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের পাঠানো বার্তার কোনো জবাব দেয়নি।
বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক কয়েক দিন আগে প্রিয় দলের খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে ভোররাতেই বিমানবন্দরে ভিড় করেছিলেন ইরাকি সমর্থকরা। তারা দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তুলে ও পতাকা নেড়ে উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের এমন হেনস্তার শিকার হওয়ায় পুরো ফুটবল বিশ্বে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

স্পোর্টস ডেস্ক