শেষ সময়ের পুরোনো রোগে জোড়া গোল হজম বাংলাদেশের
উত্তর কোরিয়ার গোলরক্ষক ইয়ো সন গাম গোটা প্রথমার্ধে বেশ নির্ভার ছিলেন। পুরোটা সময়ে তার কাছে একবারের জন্যেও বল যায়নি। যেখানে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার ৪৫ মিনিট ধরে ব্যস্ত ছিলেন উত্তর কোরিয়ার একের পর আক্রমণ সামলাতে। এ সময়ে তিনবার পরাস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু, প্রযুক্তির কল্যাণে বেঁচে যান আফঈদা-ঋতুপর্ণারা।
শেষ রক্ষা অবশ্য হয়নি। ছন্নছাড়া ডিফেন্সের খেসারত দিতে হয়েছে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে। অধিনায়ক আফঈদা সুলতানার ফাউলে পেনাল্টি পায় উত্তর কোরিয়া। সেখান থেকে গোল করতে ভুল হয়নি মিয়ং ইউ-জংয়ের। মিনিট দুয়েক পর আবার গোল পায় কোরিয়া। স্কোরবোর্ডে নাম লেখান কিম কিয়ং-ইয়ং। তাতে, ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
এএফসি নারী এশিয়ান কাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। চীনের সঙ্গে বুক চিতিয়ে লড়াই করা দলটিকে যেন আজ খুঁজেই পাওয়া যায়নি। সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরু থেকেই ছন্নছাড়া মনে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের। অবস্থা এতটা বেগতিক হয়ে পড়ে, বিরতির আগেই তিনজনকে বদলি করেন বাটলার।
স্কোরবোর্ডে ব্যবধান ২-০ হলেও, অনায়াসে তা ৫-০, এমনকি ৬-০ হতে পারত। না হওয়ার কৃতিত্ব বাংলাদেশের রক্ষণভাগের নয়, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর)। ম্যাচের ১৩ মিনিটে প্রথম গোল বাতিল হয় উত্তর কোরিয়ার। ভিএআরে দেখা গেছে কোরিয়ার খেলোয়াড়ের হাতে লেগেছে বল। ২৬ মিনিটে আবারও গোল পায় তারা। এবারও ভিএআর। কর্ণার কিকের পর বল সেভ করেন মিলি, তার হাত থেকে লাথি দিয়ে জালে পাঠানো হয় বল। রেফারি সেই যাত্রায় বাতিল করেন গোল। ৩০ মিনিটে অফসাইডে কাটা পড়ে তৃতীয় গোল। ৩৮ মিনিটে কোরিয়ার একটি আক্রমণ বারে লেগে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
তবে ভিএআর কিংবা ভাগ্য একা নয়, ছিল মিলির গ্লাভস। দল খারাপ খেললেও গোলপোস্টের নিচে মিলি নিজের কাজটা ঠিকঠাক করেন। কোরিয়ার অন্তত গোটা তিনেক নিশ্চিত গোল বাঁচান মিলি।

স্পোর্টস ডেস্ক