‘তারেকময় বাংলাদেশ’
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। রাজধানী ঢাকা আজ যে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে, তা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং দেশের আগামীর রাজনীতির গতিপথ নির্ধারক কিনা—তা বিশ্লেষণ জরুরি। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে কেন্দ্র করে জনমনে এবং রাজনৈতিক মহলে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।
সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ দেড় যুগ পর তারেক রহমানের ফেরা বিএনপির তৃণমূলের জন্য এক বিশাল ‘বুস্টার ডোজ’। তাদের ধারণা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সরাসরি নেতৃত্বে আসায় দলের চেইন-অব-কমান্ড আরও শক্তিশালী হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং রাষ্ট্র সংস্কারে তার রাজনৈতিক পরিপক্বতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, প্রবাসে থাকা অবস্থায় তিনি যেভাবে প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতির সূচনা করেছেন, তা তরুণ প্রজন্মকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে বলে তাদের বিশ্বাস।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির ওপর প্রত্যাশার চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিগত আমলের অভিযোগ এবং আইনি জটিলতাগুলো তিনি কীভাবে মোকাবিলা করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এছাড়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে বিএনপি কীভাবে সমন্বয় করবে এবং জাতীয় ঐক্যের ধারা ধরে রাখতে পারবে কি না—সেটাও বড় চ্যালেঞ্জ।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের এই সময়ে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের তরুণ ভোটার ও ‘জেনারেশন জি’। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণরা এখন আর প্রথাগত দলীয় বৃত্তে বন্দি থাকতে চায় না। তারা চায় কর্মসংস্থান, বাকস্বাধীনতা এবং স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা। তারেক রহমান তার ‘৩১ দফা’ সংস্কার প্রস্তাবের মাধ্যমে তরুণদের এই আকাঙ্ক্ষা কতটা পূরণ করতে পারবেন এবং আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবে রূপ দেবেন— সেটিই হবে তার নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আঞ্চলিক রাজনীতিতেও একটি বড় বার্তা। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা তার জন্য একটি কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা। বিশেষ করে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’— এই নীতির আলোকে তিনি কীভাবে আন্তর্জাতিক মহলে নিজের ও দলের গ্রহণযোগ্যতা আরও সুসংহত করেন, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে আজ বাংলাদেশ আক্ষরিক অর্থেই ‘তারেকময়’। তবে এই উন্মাদনা কেবল মুহূর্তের আবেগ, নাকি এটি একটি টেকসই গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সূচনা— তা নির্ভর করবে সামনের দিনগুলোতে তার নেওয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও কৌশলের ওপর। ঢাকার ৩০০ ফিটের বিশাল জনসমুদ্রে তার দেওয়া আজকের ভাষণই হয়তো নির্ধারণ করে দেবে আগামীর বাংলাদেশের স্বরূপ।

পার্থ প্রতীম