অল্প বয়সেই চুল পেকে যাচ্ছে? রোধে মেনে চলুন ৩ ঘরোয়া উপায়
এক সময় ৫০ বছর বয়স হলে চুলে পাকা ধরার বিষয়টি ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ, আধুনিক জীবনযাত্রার চাপ আর অনিয়মিত অভ্যাসের কারণে ২৫ বছরের আগেই মাথায় চুল পাকতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাদা চুলের সংখ্যাও যেন ক্রমেই বেড়ে চলে।
এমন পরিস্থিতিতে ছেলে কিংবা মেয়ে, চুলের দুশ্চিন্তায় তাদের রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। জিনগত কারণ, স্ট্রেস, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, হাইপোথাইরয়েডিজম, ভিটিলিগো, ধূমপান, পুষ্টির ঘাটতি, পার্নিসিয়াস অ্যানিমিয়া, পরিবেশ দূষণ এবং চুলের যত্ন ঠিক মতো না নেওয়া প্রভৃতি হলো অসময়ে চুলে পাকার কারণ। তবে আর চিন্তা নেই। এখানে এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি দেওয়া হলো, যেগুলো অনুসরণ করলেই দেখবেন, একটাও সাদা চুল আপনি অকালে দেখতে পাবেন না।
নারকেল তেল
চুলের যত্নে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে একটা বাটিতে সমপরিমাণে নারকেল তেল এবং লেবুর রস নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটা মাথার ত্বকে লাগিয়ে ভালো করে কয়েক মিনিট ম্যাসাজ করুন। এই পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নিলে চুল তো পাকবেই না, সেই সঙ্গে চুলের হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্যও ফিরে আসে।
পেঁয়াজ
এতে উপস্থিত বিশেষ কিছু এনজাইম আছে, যা পাকা চুলের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি চুল পড়া কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিমাণমতো পেঁয়াজ থেকে রস সংগ্রহ করে সেটা চুলে ও মাথার ত্বকে লাগাতে হবে।
হেনা ও মেথি
একটা বাটিতে দুই চামচ হেনা পাউডার, এক চামচ মেথি বীজ এবং এক চামচ দই মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। তারপর সেটি প্রতিদিন চুলে লাগাতে শুরু করুন। এমনটা করলে সাদা চুল নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হবে না। ইচ্ছা হলে নারকেল তেলের সঙ্গে হেনা পাউডার মিশিয়েও চুলে লাগাতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও সমান উপকার পাওয়া যায়।
এই উপাদানগুলো ছাড়াও আরও কিছু দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনতে হবে, তবেই দূর হবে চুলের অকালপক্কতা।
- ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল অন্তর্ভুক্ত করুন।
- স্ট্রেস ও ধূমপান কমিয়ে ফেলুন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন। মানসিক চাপ পাকা চুলের অন্যতম কারণ।
- চুলে অত্যাধিক কেমিকেল জাতীয় পণ্যের ব্যবহার কমান।
- প্রতিদিন শ্যাম্পু করা থেকে বিরত থাকুন।

ফিচার ডেস্ক