ইন্টারনেটে ইফা চিকেন নিয়ে হইচই কেন?
আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে রন্ধনপ্রণালী আর রেসিপি শুধু রান্নাঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের এক প্রান্তের খাবার মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে অন্য প্রান্তে, জন্ম দিচ্ছে নতুন নতুন ফুড ট্রেন্ডের। বাঙালি খাদ্যপ্রেমীরা বরাবরই ভিনদেশি স্বাদের প্রতি আগ্রহী। বিরিয়ানি থেকে শুরু করে চাইনিজ বা মেক্সিকান নতুন স্বাদের খোঁজে আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতেই থাকে।
এই মুহূর্তে খাদ্যরসিকদের সেই আগ্রহে নতুন করে ইন্ধন জুগিয়েছে দুবাইয়ের একটি বিশেষ রান্না, যা ইন্টারনেটে ‘ইফা চিকেন’ (Efa Chicken) নামে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। ফুড ব্লগার থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই এই রান্নার স্বাদ নিয়ে আলোচনায় মত্ত। কিন্তু কী এমন বিশেষত্ব আছে এই রান্নায়? কেনই বা এটি এত দ্রুত খাদ্যপ্রেমীদের মন জয় করে নিল?
কী এই ইফা চিকেন?
ইন্টারনেট দুনিয়ায় এই রান্নাটিকে দুবাইয়ের ‘স্বর্গীয় স্বাদের’ একটি খাবার হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইফা চিকেন আসলে দুবাইয়ের একটি জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড, যাকে স্থানীয়রা ‘ইফা দেজাজ’ ও বলে থাকেন। এই রান্নার মূল আকর্ষণ এর স্বাদের অদ্ভুত বৈপরীত্য। এখানে প্রথমে মুরগির মাংসের টুকরোগুলোকে ঝাল ঝাল মশলার সুগন্ধে ভালোভাবে ঝলসে নেওয়া হয়। তারপর সেই ঝলসে নেওয়া মাংস ডুবে থাকে ঘন, সাদা, ক্রিমের মতো এক বিশেষ গ্রেভিতে। মুখে দিলেই প্রথমে মশলার তীব্র ঝাঁঝ এবং পরে ক্রিমের শীতল, মিষ্টিভাব একযোগে মন কেড়ে নেয়। এটিই সেই ‘ফ্লেভার কম্বিনেশন’, যা ইফা চিকেনকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে এবং এই রান্নার প্রতি খাদ্যপ্রেমীদের আগ্রহ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।স্ট্রিট ফুড হওয়ায় এর রান্নার পদ্ধতিও বেশ ঝঞ্ঝাটহীন এবং দ্রুত।
আপনিও ঘরে তৈরি করুন ‘ইফা চিকেন’
আপনারাও যাতে বাড়িতে বসে এই স্বাদের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন, তার জন্য রান্নার সহজ পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো। রান্নাটি মূলত দুটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়:
উপকরণ
* ৩ টুকরো মুরগির ঊরুর অংশের মাংস
* ভাজার জন্য তেল ও মাখন
* প্রথম ভাগ: মাংস ম্যারিনেশন ও রান্না
ম্যারিনেশনের জন্য
* ৩/৪ কাপ পানি ঝরানো টকদই
* দুই টেবিল চামচ আদা-রসুন বাটা
* এক টেবিল চামচ ধনেগুঁড়ো
* দুই চা চামচ জিরেগুঁড়ো
* এক টেবিল চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো
* দুই চা চামচ লঙ্কাগুঁড়ো
* এক চা চামচ হলুদগুঁড়ো
* এক চা চামচ গরমমশলার গুঁড়ো
* দুই চা চামচ লবণ (স্বাদমতো)
* অল্প চিনি
* অর্ধেক লেবুর রস
পদ্ধতি
সমস্ত ম্যারিনেশনের উপকরণ দিয়ে মাংসের টুকরোগুলো ভালোভাবে মাখিয়ে অন্তত ২-৩ ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর প্যান বা গ্রিলে সামান্য তেল ও মাখন দিয়ে মুরগির মাংসের টুকরোগুলো সোনালী ও পুরোপুরি সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত ঝলসে বা ভেজে নিন।
দ্বিতীয় ভাগ: সাদা সস তৈরি ও পরিবেশন
সাদা সস তৈরির জন্য
* ৩টি ডিমের সাদা অংশ
* ১৫টি রসুনের কোয়া
* দুই টেবিল চামচ মেয়োনিজ
* ২টি চিজের কিউব
* ১/৪ কাপ ক্রিম
* ১/২ কাপ দুধ (প্রয়োজনমতো বাড়ানো/কমানো যেতে পারে)
* স্বাদমতো লবণ ও অল্প চিনি
পদ্ধতি
১. একটি ব্লেন্ডারে ডিমের সাদা অংশ, রসুনের কোয়া, মেয়োনিজ, চিজ, ক্রিম, দুধ, লবণ ও চিনি দিয়ে খুব ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন, যতক্ষণ না এটি ঘন, মসৃণ সসের আকার নেয়। প্রয়োজনমতো দুধ যোগ করে ঘনত্বের সামঞ্জস্য বজায় রাখুন।
২. একটি পাত্রে ঝলসে নেওয়া মাংসের টুকরোগুলো রাখুন এবং তার উপর প্রস্তুত করা ঘন সাদা সসটি ভালোভাবে ঢেলে দিন।
৩. হালকা আঁচে কয়েক মিনিট রেখে দিন (ফুটিয়ে তোলা যাবে না, শুধু গরম করতে হবে)।
৪. গরম গরম পরিবেশন করুন।

ফিচার ডেস্ক