ইসরায়েলের নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এগিয়ে নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী জোটের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের স্পষ্ট ঘাটতি রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে দেশকে উগ্র-ডানপন্থি ধারায় চালিত করা এবং একাধিক যুদ্ধের সূচনা করা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে দেশটির নির্বাচনে কয়েক দশকের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চসংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি দেখা গেছে।
ভোটগ্রহণের পর নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট উভয়ই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও সরকার গঠনের লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
৬৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, আইজেনকোটের বিরোধী জোট ৪৮টি আসন এবং দেশের নিরপেক্ষ আরব দলগুলো ১৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ভোট গণনা বাড়ার সাথে সাথে এই ফলাফলে আংশিক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুথফেরত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, সাবেক সামরিক প্রধান ও রাজনীতিতে নবাগত আইজেনকোট এবং তার বিরোধী জোট নেতানিয়াহুর উগ্র-ডানপন্থি শিবিরের সঙ্গে সমানে সমান হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রয়েছে। এতে আভাস পাওয়া যায় উভয় পক্ষই ৫১টির কাছাকাছি করে আসন পেতে পারে—যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশ কম।
নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেছে ইসরায়েলি আরব দলগুলো। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তাদের অনুসারী ভোটাররা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। নেতানিয়াহু নির্বাচনি প্রচারণায় অনবরত সতর্ক করে আসছিলেন যে, এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী তার নেতৃত্বে পরিচালিত ইসরায়েলের ইহুদি জাতীয়তাবাদী ধারাকে দুর্বল করে দেবে।
আংশিক ফলাফল নির্দেশ করে যে, আইজেনকোটের জোট যদি আরব দলগুলোর সাথে জোট বাঁধে, তবে তাদের সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন থাকবে; যদিও তার জোটের অধিকাংশ সদস্যই প্রচারণার সময় এমন উদ্যোগের বিষয়ে চরম অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।
তবে আইজেনকোট শিবিরের অন্তর্ভুক্ত ইসরায়েলের প্রধান বামপন্থি দলের প্রধান ইয়াইর গোলান বুধবার ঠিক এই পদক্ষেপেরই আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ তিনি লেখেন, ‘ইহুদি ভোট এবং আরব ভোটের মধ্যে নেতানিয়াহুর বর্ণবাদী বিভাজন আমাদের আর মেনে নেওয়া উচিত নয়। আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একটি পরিবর্তনকামী সরকার গঠনের সুযোগ এসেছে।’
আইজেনকোট প্রচারণার সময় বলেছিলেন, তিনি ইসরায়েলি আরব আইনপ্রণেতাদের সাথে সরকার গঠন করবেন না; যা নেতানিয়াহুর অবস্থানেরই প্রতিফলন। নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, আরব ভোটের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকারের বৈধতার অভাব থাকবে।
অবশ্য আরব আইনপ্রণেতারা কোনো আনুষ্ঠানিক জোটে যোগ না দিয়েও বিশেষ সংসদীয় ভোটে আইজেনকোটকে সমর্থন দিতে পারেন, যার ফলে তিনি একটি সংখ্যালঘু সরকার টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হবেন।
কোনো শিবিরেরই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার এই রাজনৈতিক অচল অবস্থা কাটাতে জোট গঠনের চেষ্টা চালাতে সপ্তাহ কেটে যেতে পারে; এমনকি সমঝোতা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সাময়িক সময়ের জন্য এই অচলাবস্থা নেতানিয়াহুর জন্যই লাভজনক হতে পারে, কারণ একটি নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকবেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা বা শুক্রবার সকালের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার ভোর ৩টার পর জেরুজালেমের একটি কনভেনশন সেন্টারে উল্লসিত সমর্থকদের অভিবাদন জানিয়ে ৭৭ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একটি শক্তিশালী ডানপন্থী সরকার গঠনের আহ্বান জানান এবং বলেন যে, ইহুদি ও জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
প্রায় দুই দশক ধরে বিরতিহীন ও বিরতিসহ ইসরায়েল শাসন করা নেতানিয়াহু অস্বাভাবিকভাবে তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত রাখেন এবং সরাসরি জয়ের দাবি করা থেকে বিরত থাকেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দাবি করেছেন যে, নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর সমর্থন এই নির্বাচনে ‘অনেক বেশি’ সহায়তা করেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক