১ মাসে ৫ শতাংশের বেশি কমলো স্বর্ণের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার আরও বাড়ানোর আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ১৯৫ দশমিক ৫৬ ডলারে উঠলেও পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে তা ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। খবর রয়টার্সের।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার চড়া রাখতে পারে- এমন ধারণা জোরালো হওয়ায় শক্তিশালী হয়ে উঠছে মার্কিন ডলার। এর ফলে সেপ্টেম্বর মাসে ডলার সূচকেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এতে করে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ ও অন্যান্য ধাতু ক্রয় বেশ ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পিসিই সূচক আশানুরূপভাবে কমলে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পুনরায় চার হাজার ২০০ থেকে চার হাজার ৩০০ ডলারের ঘরে ফিরে আসতে পারে। তবে এটি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে সুদের হার ও ডলারের মান আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা স্বর্ণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এটি থেকে কোনো নির্দিষ্ট সুদ পাওয়া যায় না।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, ট্রেইডাররা আশঙ্কা করছেন যে চলতি বছরের অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার পুনরায় বাড়ানোর সম্ভাবনা ৪৭ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৯১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যামাত্রায় নামিয়ে আনতে এ বছর সুদের হার আরও একবার বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে।
এদিন স্বর্ণের পাশাপাশি রূপার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৬১ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৭১৭ দশমিক ৯০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এক হাজার ২২৯ দশমিক ১৫ ডলারে লেনদেন হলেও তিনটি খাতই পুরো মাসজুড়ে সামগ্রিক দরপতনের মুখোমুখি হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক