মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকনে‘ সংকট, ৮ সেনার আত্মহত্যার চেষ্টা
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের‘ অন্তত আটজন নাবিক ও সেনা সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। রণতরীটিতে অবস্থানরত সেনাসদস্যদের স্বাস্থ্য ও শোচনীয় জীবনযাত্রার পরিবেশ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মুখে মার্কিন ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হুং কাও এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন নৌবাহিনীর এই নজিরবিহীন মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড রণতরীর সেনাসদস্যদের সার্বিক অবস্থা ও কল্যাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিঠি পাঠান। সেই চিঠির জবাবে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হুং কাও নিশ্চিত করেন, আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের ৮ জন সদস্য আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
কাও জানান, সেনাসদস্যদের আধ্যাত্মিক ও মানসিকভাবে সহায়তা দিতে ৫ জন ধর্মযাজক এবং বেশ কয়েকজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ রণতরীতে ছিলেন। নৌবাহিনী সরবরাহ সংকটের কথা স্বীকার করলেও সার্বিক ‘মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের‘ বিষয়টি অস্বীকার করেছে। কাও বিশুদ্ধ খাবার পানি ও তাজা খাবারের ঘাটতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, পাইপলাইনে সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি এবং রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্টের সমস্যার কারণে অল্প সময়ের জন্য খাবার তালিকায় কিছু কাটছাঁট করতে হয়েছিল।
সিনেট সশস্ত্র সেবা কমিটির সদস্য সিনেটর গিলিব্র্যান্ড রণতরীর জঘন্য পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ যাকে ‘ভুয়া খবর‘ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা বাস্তবে সেনাসদস্যদের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক রূপ ধারণ করেছিল। সেনাসদস্যদের প্রতি সরকারের এই আচরণ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও চরম অবমাননাকর।
উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রওনা হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান নেয়। মে মাসে যুদ্ধজাহাজটির মোতায়েন মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা দফায় দফায় বাড়ানো হয়। দীর্ঘ ৯ মাস পর আগস্ট মাসে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন‘ রণতরী দিয়ে আব্রাহাম লিংকনকে স্থলাভিষিক্ত করে দেশে ফেরানো হচ্ছে।
সম্প্রতি আমেরিকান নৌবাহিনীর গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর তুলনায় যুদ্ধজাহাজে থাকা মার্কিন নৌসেনারাই সবচেয়ে বেশি গুরুতর মানসিক চাপে ভোগেন। যার প্রধান কারণ অপর্যাপ্ত ঘুম, কোলাহল এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক