প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বইয়ে ৫ চাঞ্চল্যকর দাবি
প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই আর্ল চার্লস স্পেন্সারের নতুন বই সোয়ান সং প্রকাশের আগেই ব্রিটিশ রাজপরিবারে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বইটির কয়েকটি অংশ প্রকাশ্যে আসার পর ডায়ানার দাম্পত্য জীবন এবং তার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লসের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নতুন নানা দাবি সামনে এসেছে।
বইটি এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে বইটির প্রকাশক পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস নিশ্চিত করেছে, ডেইলি মেইলে প্রকাশিত উদ্ধৃতিগুলো বইটিরই সঠিক অংশ। খবর সিএনএনের।
এ নিয়ে বাকিংহাম প্যালেসও বিরল এক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে রাজপ্রাসাদের মুখপাত্র বলেন, তারা সাধারণত বই নিয়ে মন্তব্য করে না। তবে ‘ভ্রাতৃশোকের যন্ত্রণা’ দীর্ঘ সময় পরও মানুষের যুক্তি, বিচারবোধ ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বইটিতে উঠে আসা পাঁচটি উল্লেখযোগ্য দাবি হলো—
ডায়ানার মৃত্যুর খবর শুনে চার্লস ‘উচ্ছ্বসিত’ ছিলেন
স্পেন্সারের সবচেয়ে আলোচিত দাবিগুলোর একটি হলো, ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট ডায়ানার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর চার্লসের প্রতিক্রিয়া।
স্পেন্সারের বর্ণনা অনুযায়ী, ডায়ানার গাড়ি দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি তার বোন জেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন। পরে ডায়ানার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলসের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়।
স্পেন্সার দাবি করেন, ফোনে চার্লসের কণ্ঠ তাকে ‘লটারি জেতা ব্যক্তির মতো উচ্ছ্বসিত’ মনে হয়েছিল।
তার ধারণা, চার্লসের প্রথম চিন্তা হয়তো ছিল এই মৃত্যুর ঘটনা তাকে তার ভালোবাসার নারীকে বিয়ে করার সুযোগ করে দেবে—ডায়ানার মৃত্যুতে শোক প্রকাশের বিষয়টি নয়।
‘আমরা খুব শিগগিরই তাকে ভুলে যাব’
ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারির মায়ের কফিনের পেছনে হাঁটা উচিত কি না, তা নিয়ে স্পেন্সার ও চার্লসের মধ্যে ফোনে তর্ক হয়েছিল বলে বইয়ে দাবি করা হয়েছে।
স্পেন্সারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে চার্লস রাগান্বিত হয়ে ডায়ানাকে নিয়ে তার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর চার্লস তাকে বলেন, ‘নিশ্চিত থাকুন, আমরা খুব শিগগিরই তাকে ভুলে যাব।’
স্পেন্সার লিখেছেন, ওই কথা শুনে তিনি বিস্মিত হয়ে ফোন কেটে দেন।
ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বোনের কফিনের পেছনে হাঁটার অভিজ্ঞতাকে স্পেন্সার ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে ডায়ানার মৃত্যুর পর হ্যারি পর্যাপ্ত যত্ন পাচ্ছিলেন না বলেও তিনি দাবি করেন।
বিয়ের আগেই ডায়ানা সম্পর্ক ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন
চার্লস ও ডায়ানার দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়েও বেশ কিছু দাবি করেছেন স্পেন্সার।
তার দাবি, চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ২১তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে চার্লস ডায়ানার প্রতি প্রায় কোনো আগ্রহই দেখাননি। ওই ঘটনার পর ডায়ানা তাদের বাবা স্পেন্সারকে জানিয়ে বিয়ে করতে চান না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন বলে বইয়ে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে ডায়ানা চার্লসের কেনা একটি ব্রেসলেট দেখতে পেয়েছিলেন, যেটি তার বর্তমান স্ত্রী কুইন ক্যামিলার জন্য কেনা হয়েছিল বলেও স্পেন্সার দাবি করেছেন।
এ ছাড়া বিয়ের আগের দিন চার্লস ডায়ানাকে বলেছিলেন, তিনি তাকে বিয়ে করতে পেরে খুশি, কিন্তু তার প্রেমে পড়েননি—এমন একটি কথাও ডায়ানা এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে বলেছিলেন বলে বইয়ে উল্লেখ করেছেন স্পেন্সার।
ডায়ানার ওজন নিয়ে চার্লসের মন্তব্য
বাগদানের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিন পর চার্লস ডায়ানার কোমর চেপে ধরে তার ওজন নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন স্পেন্সার।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চার্লস ডায়ানাকে বলেছিলেন, ‘ওহ, এখানে তো একটু মোটা হয়ে গেছ, তাই না?’
স্পেন্সারের দাবি, বুলিমিয়ায় ভোগা ডায়ানার কাছে মন্তব্যটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তিনি লিখেছেন, বাগদান থেকে বিয়ে পর্যন্ত সময়ে ডায়ানার কোমরের মাপ ২৯ ইঞ্চি থেকে কমে ২৩ দশমিক ৫ ইঞ্চি হয়েছিল বলে ডায়ানা তাকে জানিয়েছিলেন।
ডায়ানার ‘এইচআরএইচ’ উপাধি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রানি এলিজাবেথ
ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দিন তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ডায়ানার ‘এইচআরএইচ’ বা ‘হার রয়্যাল হাইনেস’ উপাধি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন স্পেন্সার।
চার্লসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ডায়ানা এই উপাধি হারিয়েছিলেন। একইভাবে তৎকালীন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর সারাহ ফার্গুসনও এই উপাধি হারিয়েছিলেন।
স্পেন্সারের দাবি, উপাধি হারানোর ঘটনায় ডায়ানা গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন এবং এটিকে তিনি ‘তুচ্ছ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ’ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেছিলেন।
রানি এলিজাবেথের প্রস্তাবকে ডায়ানার মৃত্যুর পর একটি ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ হিসেবে দেখেছিলেন স্পেন্সার। তাই তিনি সেটি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
বইটির এসব দাবি প্রকাশের পর ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে ডায়ানার সম্পর্ক এবং তার মৃত্যুর পরের ঘটনাগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বইয়ের বেশিরভাগ বক্তব্যই স্পেন্সারের ব্যক্তিগত স্মৃতি, উপলব্ধি ও দাবির ওপর ভিত্তি করে লেখা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক