মান্দেব প্রণালি বন্ধের পরিণতি হবে ভয়াবহ ও ‘বিপর্যয়কর’ : কাতার
হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘদিনের অবরোধ ও লোহিত সাগরের উপকূলে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে নতুন সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব জলপথটি বন্ধ হয়ে গেলে তার পরিণতি পুরো বিশ্বের জন্য ভয়াবহ ও ‘বিপর্যয়কর’ হবে বলে সতর্ক করেছে কাতার।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ইব্রাহিম আল-হাশমি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ব ইতোমধ্যেই যথেষ্ট সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরের দক্ষিণমুখী প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব বন্ধ হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’
ইব্রাহিম আল-হাশমি আরও জানান, সংকটের নেতিবাচক প্রভাব এখনই বাজারে স্পষ্ট, তাই সামরিক উত্তেজনা এড়িয়ে কাতার শুরু থেকেই কূটনীতি ও দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে।
এদিকে ইয়েমেন সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। হুথিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব তাদের লক্ষ্য করে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, দ্রুত অগ্রগতির নামে হুথি মিলিশিয়ারা বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করছে।
জলপথেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের সময় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত বস্তুর (প্রজেক্টাইল) আঘাত হানার বিলম্বিত তথ্য পাওয়া গেছে।
সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হুথি হামলার পর দেশটির পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন অচল হয়ে পড়েছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ও জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে।
অন্যদিকে, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক বাস্তবতা বদলে গেছে। তিনি জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে বর্ণিত তেহরানের দাবিগুলো না মানা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না ইরান।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক