পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ হামলা, ইউক্রেনকে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি ন্যাটোর
পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পর ইউক্রেনকে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ন্যাটো। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছেন জোটের মহাসচিব মার্ক রুটে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রুটে বলেন, ৩২ সদস্যের এই সামরিক জোট ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া থেকে পিছপা হবে না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রাশিয়ার সীমান্তসংলগ্ন পূর্বাঞ্চলে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাও বাড়ানো হবে। খবর আল জাজিরার।
ব্রাসেলসে ন্যাটোর রাজনৈতিক সদর দপ্তরে এসব কথা বলেন রুটে। এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা হয়। একই দিনে আরেকটি হামলা চালানো হয় সীমান্তের অন্য একটি ক্রসিং পয়েন্টের কাছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও সাবেক সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডটসহ একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল ওই স্টেশন অতিক্রম করার কয়েক মিনিট পর ট্রেনটিতে হামলা হয়।
রুটে বলেন, ন্যাটো ভূখণ্ডের কাছাকাছি ইউক্রেনের ট্রেনে গতকালের হামলা আবারও পুতিনের হতাশা এবং ভয় ও সন্ত্রাস ছড়ানোর আকাঙ্ক্ষা দেখিয়েছে। তার ভাষায়, ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে গিয়ে রাশিয়া ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ সোমবার জানান, দেশটির সেনাবাহিনী বাল্টিক সাগর থেকে রুশ সামরিক ড্রোন বলে ধারণা করা একটি বস্তু উদ্ধার করেছে। উপকূলীয় গ্রাম ইয়ারোস্লাভিয়েকের কাছে এটি পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা কাজা কালাস বলেন, পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে এসব হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্টতই পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া থেকে ভয় দেখিয়ে বিরত রাখা।
কাজা কালাস বলেন, আমাদের দেখাতে হবে যে আমরা ইউক্রেনের পাশে আছি এবং আমরা ভয় পাইনি।
ট্রেনে হামলার বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ‘পুরো ভূখণ্ডজুড়ে’ অভিযান চালাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক রোববার সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত লক্ষ্য করে হামলা আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
ওয়ারশতে নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠকের পর তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ ও মাসে রাশিয়ার পক্ষ থেকে হামলা আরও তীব্র হতে পারে। এমনকি এই উত্তেজনা পোল্যান্ডের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পোলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে সিআইএর দেওয়া ব্রিফিংসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইউক্রেন সীমান্তের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা এবং ইউরোপের দেশগুলোর ভেতরে নাশকতা আরও বাড়াতে পারে রাশিয়া। এর মাধ্যমে ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।
সম্ভাব্য যৌথ প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন টাস্ক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না করতে সম্মত হয়েছে। রাশিয়াও একই কাজ করতে সম্মত হয়েছে!
তবে রাশিয়া বা ইউক্রেন—কোনো পক্ষই ট্রাম্পের এই দাবি নিশ্চিত করেনি।
এর মধ্যেই সোমবার কৃষ্ণসাগরে দুটি কার্গো জাহাজে রুশ বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে রাশিয়ার ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
এদিকে ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা কমানোর উদ্যোগ শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন রাশিয়ার ওপর হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত—যদি তাদের মিত্ররা নিশ্চিত করে যে মস্কোও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা, অবকাঠামো এবং খাদ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে হামলা করবে না।
এর আগে জেলেনস্কি পারস্পরিক হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করাকে যুদ্ধ থামানোর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন। তবে ক্রেমলিন ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, ইউক্রেনকে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া এবং সামরিক সক্ষমতা কমানোর মতো শর্ত পূরণ করতে হবে, তার আগে রাশিয়া হামলা বন্ধ করবে না।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক