বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম
সৌদি আরবের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
আজ সোমবার সকাল ৭টায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৫৪ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৮৮ ডলার বা ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে হয় ১০২ দশমিক ৯৩ ডলার। খবর রয়টার্সের।
পণ্যবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বেড়ে যাওয়াই তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
আইএনজির কমোডিটি কৌশলবিদরা বলেন, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন লক্ষ্য করে হামলার পর বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে এবং কতদিন এটি বন্ধ থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সৌদি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত এই পাইপলাইন সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল রপ্তানির সুযোগ দেয়।
পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সৌদি তেল রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্প সূত্র জানিয়েছে, পাইপলাইন বন্ধ থাকলে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে থাকা মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে বাড়িঘর ও একটি মসজিদের ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় এসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হুথিরাও পৃথকভাবে দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, রোববার প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের সময় একটি জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে আগুন ধরে যায় এবং ক্রুদের জাহাজ থেকে সরিয়ে নিতে হয়।
ইরান জানিয়েছে, দেশটির উপকূলের কাছে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত এবং চারজন ক্রু আহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে তারা।
বাব আল-মান্দেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছিল। ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা জুলাইয়ের পর প্রথমবার।
এদিকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি রোববার এক্সে জানান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ছয় মাস আগে যুদ্ধ শুরু করার পর জুনে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধে কোনো শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক