টানা তিন সপ্তাহ পতন, বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী স্বর্ণের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর জোরালো সম্ভাবনার মুখে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দাম কমেছে স্বর্ণের। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) লেনদেনের একপর্যায়ে দাম সামান্য বাড়লেও সাপ্তাহিক হিসেবে দরপতনের ধারাতেই রয়েছে এই মূলবান ধাতু। খবর রয়টার্সের।
আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫১.৯৭ মার্কিন ডলারে কেনাবেচা হয়েছে। তবে এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের সামগ্রিক পতন হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯৩.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে গত আগস্ট মাসে উৎপাদক মূল্য সূচক ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে আগামী সপ্তাহের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে— এমন আশঙ্কায় বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম একলাফে প্রায় ২ শতাংশ নেমে যায়। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা মূল্যস্ফীতি প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন।
আর্থিক বাজার বিশ্লেষক ওয়ায়েল মাকারেম জানান, মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে সুদের হার ও মার্কিন ডলারের মান আরও বাড়বে। এটি স্বর্ণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিপরীতে নিরাপদ বিনিয়োগ ধরা হলেও সুদের হার বাড়লে সুদহীন এই ধাতুর চাহিদা কমে যায়।
অন্যদিকে ইয়েমেনের মোচা বন্দর হুথিদের দখলে নেওয়া এবং লোহিত সাগর অঞ্চলে চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খনিজ তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর তেলের দাম এই প্রথম ১০০ ডলার অতিক্রম করল।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর বাজারেও পতন দেখা গেছে। রুপার দাম আজ ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৩.৯৩ ডলারে উঠলেও সাপ্তাহিক হিসেবে ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১,৭৯৮.৬৩ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৯.৯১ ডলারে বিক্রি হলেও দুটি ধাতুই সাপ্তাহিক দরপতনের মুখে পড়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক