২৫ বিলিয়ন নাকি ১ ট্রিলিয়ন : ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত খরচ কত?
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন তৃতীয় মাসে পদার্পণ করেছে। এই যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে পেন্টাগন যুদ্ধের খরচ সীমিত করে দেখাচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা এক ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরছেন।
ইরান যুদ্ধে ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটনে বিতর্ক চলছে। পেন্টাগন সম্প্রতি হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে জানিয়েছে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জে হার্স্ট বলেছেন, এই অর্থের বেশিরভাগই গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে ও এটি মূলত সরাসরি ‘যুদ্ধের ব্যয়’। তবে এর আগে জানানো হয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই ১১.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল, যা বর্তমান হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
পেন্টাগনের দেওয়া ২৫ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাবকে অত্যন্ত কম বলে মনে করছেন ডেমোক্র্যাটিক নেতা ও অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর এই যুদ্ধের প্রকৃত প্রভাব ৬৩ হাজার কোটি থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। হার্ভার্ডের অধ্যাপক লিন্ডা বিলমেসের মতে, এই যুদ্ধের প্রাথমিক খরচ প্রতিদিন প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি খরচের মধ্যে প্রবীণ সৈনিকদের যত্ন ও অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করার মতো বিষয়গুলো জড়িত, যা পেন্টাগনের বর্তমান হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অস্ত্রের অসম খরচ ও ক্ষয়ক্ষতি
যুদ্ধের ময়দানে অস্ত্রের ব্যবহারের ধরন ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মোট ব্যয়ের পরিমাণকে আকাশচুম্বী করে তুলছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিটি মাত্র ৫০ হাজার ডলার মূল্যের ইরানি শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এছাড়া, ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ মেরামত ও সামরিক স্থাপনাগুলোর পুনর্গঠন বর্তমানে যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ব্যয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন আগামী বছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট চেয়েছে। এটি সামরিক খাতে ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই বিশাল বাজেটের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক