সফরের শেষ দিনে একান্ত বৈঠক করবেন ট্রাম্প-শি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত চীন সফরের শেষ দিন আজ শুক্রবার (১৫ মে)। সফরের সমাপনী দিনে ট্রাম্পকে বেইজিংয়ের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও গোপনীয় স্থান ‘ঝংনানহাইয়ে‘ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। নিষিদ্ধ নগরীর (ফরবিডেন সিটি) পাশেই অবস্থিত এই সাবেক রাজকীয় উদ্যানটি মূলত চীনের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে শি জিনপিংসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বসবাস ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেন। খবর আলজাজিরার।
অত্যন্ত গোপনীয় ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবেষ্টিত ঝংনানহাইয়ে খুব কম সংখ্যক বিদেশি নেতাকে আতিথেয়তা দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে বারাক ওবামার পর ট্রাম্পই প্রথম কোনো মার্কিন নেতা, যিনি এই বিরল সুযোগ পেলেন। এর আগে কেবল ভ্লাদিমির পুতিন, বেলারুশের লুকাশেঙ্কো ও নেদারল্যান্ডসের রাজার মতো হাতেগোনা কয়েকজনকে এখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জিনপিং। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পকে ঝংনানহাইয়ে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে বেইজিং এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, তারা ট্রাম্পকে সর্বোচ্চ সম্মান দিচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় ফেরাতে আগ্রহী।
সফরের অন্যান্য দিনে দুই নেতা বিশাল প্রতিনিধি দল বেষ্টিত থাকলেও আজ তারা অনেকটা ঘরোয়া ও অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে একান্ত বৈঠক করবেন। এই নিভৃত আলাপচারিতা দুই নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উভয় পক্ষই বর্তমান সম্পর্ককে ‘কৌশলগত, গঠনমূলক ও স্থিতিশীল’ হিসেবে বর্ণনা করতে একমত হয়েছে। চীনের জন্য এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হলো গত বছরের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়ানো। উল্লেখ্য, গত বছর ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক হার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছিল।
চীনের নীতিনির্ধারকরা চাইছেন, শি জিনপিং ও ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত সমঝোতার মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে ভিন্ন পথ অবলম্বন করা হোক। আজকের এই ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত দুই পরাশক্তির মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক