যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে কী আছে, ইরান কি এতে রাজি হবে?
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে সংকট নিরসনে নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরান এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান চুক্তি করতে চায়।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। খবর আল জাজিরার।
কী আছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবে?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে দুই পক্ষ অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী- ইরান অন্তত ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং বিদেশে জব্দ থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা হবে।
এছাড়া উভয় পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক করবে।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর থেকে কার্যত হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ইরান।
বড় প্রশ্ন: ইরান কি মানবে?
তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করলেও দেশটির নেতারা ইতোমধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ী বলেছেন, এটি বাস্তবসম্মত কোনো প্রস্তাব নয়, বরং আমেরিকার ইচ্ছার তালিকা।
দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো ব্যর্থ হয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে- পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আপসের আলোচনা এখন নয়; আপাতত যুদ্ধ বন্ধ করাই মূল লক্ষ্য।
ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি গ্যারান্টি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি এবং ইউরেনিয়াম ইস্যুতে অচলাবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে নিক অথবা তা নিষ্ক্রিয় করুক। বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজন প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।
তবে ইরান জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় বৈধ।
হরমুজ এখন সবচেয়ে বড় ইস্যু
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও রয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যে ওই জলপথে নতুন নিরাপত্তা নীতি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্ররা চায়, কোনো শর্ত ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হোক।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে হরমুজে আটকে থাকা জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার সামরিক পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, যাতে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে এখনও পর্যন্ত দুই পক্ষের অবস্থান অনেক দূরে থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতা আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক