চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তেলের দাম, বৈশ্বিক জোট গঠনের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ ও মার্কিন অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন : ড্যাডির ওপর দায় চাপাচ্ছেন? ‘ড্যাডি’ ট্রাম্প খুশি হবেন না
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি বিশেষ তারবার্তা থেকে জানা গেছে, ‘মেরিটাইম ফ্রিডম কনস্ট্রাক্ট' নামের প্রস্তাবিত এই জোটটি মূলত তথ্য আদান-প্রদান, কূটনৈতিক সমন্বয় ও ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করবে। খবর রয়টার্সের।
আরও পড়ুন : ইরানের ৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
দুই মাস ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি বর্তমানে প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে। ফলে বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন : ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে, বললেন ট্রাম্প
বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যা ২০২২ সালের ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থবির হয়ে পড়া কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ইরানের ওপর নতুন করে শক্তিশালী সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করার কথা রয়েছে। ট্রাম্প নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসতে হবে, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
এদিকে পেন্টাগনের প্রথম দাপ্তরিক হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো ইউরোপীয় মিত্ররা জোট গঠনের বিষয়ে আলোচনা করলেও তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, কেবল যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটলেই তারা এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।
আরও পড়ুন : বিধানসভা নির্বাচনে চমক দেখাতে যাচ্ছে থালাপতি বিজয়ের দল
অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। মুদ্রার মান রেকর্ড নিচে নেমে গেছে। তা সত্ত্বেও তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা দাবি করেছে, যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে তেলের আকাশচুম্বী দাম ও সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক