উইন্ডোজ ১১ ল্যাপটপের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর কার্যকর উপায়
চার্জার সঙ্গে না থাকলে দ্রুত ল্যাপটপের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া বেশ বিরক্তিকর। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করার সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ কম থাকলে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে উইন্ডোজ ১১-এর কয়েকটি সেটিংস পরিবর্তন করেই ব্যাটারির চার্জ কিছুটা বেশি সময় ধরে রাখা সম্ভব।
সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পর্দার উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেওয়া। কিবোর্ড থেকে উইন্ডোজ + এ চাপলে দ্রুত সেটিংস খুলে পর্দার উজ্জ্বলতা কমানো যায়। এর পাশাপাশি আরও কিছু সেটিংস পরিবর্তন করলে ব্যাটারি থেকে অতিরিক্ত সময় পাওয়া সম্ভব।
শক্তি সাশ্রয়ী পাওয়ার মোড চালু করুন
উইন্ডোজ ১১-এর সেটিংস খুলে সিস্টেম > পাওয়ার অ্যান্ড ব্যাটারি অপশনে যান। এখানে পাওয়ার মোড থেকে এমন একটি মোড নির্বাচন করা যায়, যা তুলনামূলকভাবে কম শক্তি ব্যবহার করে।
একই জায়গায় পর্দা কখন বন্ধ হবে এবং ল্যাপটপ কখন ঘুম বা হাইবারনেশন মোডে যাবে, সেই সময় নির্ধারণ করা যায়। ল্যাপটপ কিছুক্ষণ ব্যবহার না করলে দ্রুত পর্দা বন্ধ ও ঘুম মোড চালু করার সময় নির্ধারণ করলে ব্যাটারি সাশ্রয় হবে।
এ ছাড়া এনার্জি সেভার চালু করা যায়। এটি চালু থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা কিছু কার্যক্রম সীমিত হয়, পর্দার উজ্জ্বলতা কমে এবং উইন্ডোজের কিছু ভিজ্যুয়াল প্রভাব বন্ধ থাকে। চাইলে নির্দিষ্ট ব্যাটারি শতাংশে পৌঁছালে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার সেটিংসও করা যায়।
আরও বেশি ব্যাটারি সাশ্রয় করতে চাইলে পুরোনো কন্ট্রোল প্যানেল থেকে পাওয়ার অপশনস-এ গিয়ে পাওয়ার সেভার নির্বাচন করা যায়। এরপর চেঞ্জ প্ল্যান সেটিংস > চেঞ্জ অ্যাডভান্সড পাওয়ার সেটিংস থেকে প্রসেসরের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ব্যবহারের সীমা কমিয়ে দেওয়া সম্ভব। এতে প্রসেসরের কর্মক্ষমতা কিছুটা কমলেও ব্যাটারি খরচ কমতে পারে।
ভিজ্যুয়াল প্রভাব বন্ধ করুন
উইন্ডোজের বিভিন্ন অ্যানিমেশন ও স্বচ্ছতার প্রভাবও কিছুটা ব্যাটারি ব্যবহার করে। এগুলো বন্ধ করতে সেটিংস > অ্যাক্সেসিবিলিটি > ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস এ গিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইফেক্টস ও অ্যানিমেশন ইফেক্টস বন্ধ করা যায়।
আরও বেশি ভিজ্যুয়াল প্রভাব বন্ধ করতে স্টার্ট মেনুতে ‘পারফরম্যান্স’ লিখে অ্যাডজাস্ট দ্য অ্যাপিয়ারেন্স অ্যান্ড পারফরম্যান্স অব উইন্ডোজ নির্বাচন করে অ্যাডজাস্ট ফর বেস্ট পারফরম্যান্স বেছে নেওয়া যায়। তুলনামূলক কম শক্তিশালী বা বাজেট ল্যাপটপে এর প্রভাব বেশি দেখা যেতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করুন
অনেক সময় পর্দায় কোনো অ্যাপ খোলা না থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন প্রোগ্রাম চলতে থাকে। এগুলোও ব্যাটারি দ্রুত শেষ করতে পারে। টাস্কবারের ডান পাশে থাকা ছোট আইকনগুলো পরীক্ষা করে যেসব অ্যাপ প্রয়োজন নেই, সেগুলো বন্ধ করা যায়। ছোট তীর চিহ্নে ক্লিক করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা আরও কিছু অ্যাপের তালিকা দেখা যাবে।
অপ্রয়োজনীয় ব্রাউজার ট্যাব বন্ধ রাখুন
একসঙ্গে অনেক ব্রাউজার ট্যাব খোলা রাখলেও ল্যাপটপের ব্যাটারিতে চাপ পড়ে। প্রয়োজন নেই এমন ট্যাব বন্ধ করে দেওয়া ভালো। পরে প্রয়োজন হতে পারে এমন ওয়েবসাইটগুলো বুকমার্ক করে রাখা যায়। গুগল ক্রোমে মেমোরি সেভার এবং মাইক্রোসফট এজে স্লিপিং ট্যাবস চালু করলে দীর্ঘসময় ব্যবহার না করা ট্যাবগুলো কম সিস্টেম সম্পদ ব্যবহার করবে।
টাস্ক ম্যানেজার দিয়ে বেশি শক্তি খরচ করা প্রোগ্রাম শনাক্ত করুন
ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন প্রোগ্রাম বেশি প্রসেসর বা সিস্টেম সম্পদ ব্যবহার করছে, তা দেখতে কন্ট্রোল + শিফট + এস্ক চাপুন। এতে টাস্ক ম্যানেজার খুলবে। এরপর প্রসেসেস বিভাগে গিয়ে কোন প্রোগ্রাম বেশি সিপিইউ ব্যবহার করছে তা দেখা যাবে।
তবে অপরিচিত কোনো প্রক্রিয়া না বুঝে বন্ধ করা উচিত নয়। কোনো প্রক্রিয়া সম্পর্কে সন্দেহ থাকলে আগে সেটি সম্পর্কে তথ্য জেনে নেওয়া ভালো।
সব মিলিয়ে, ল্যাপটপের ব্যাটারি দীর্ঘক্ষণ চালাতে পর্দার উজ্জ্বলতা কমানো, এনার্জি সেভার চালু রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ব্রাউজার ট্যাব বন্ধ করা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের অতিরিক্ত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে ব্যাটারি সাশ্রয়ের সঙ্গে কর্মক্ষমতারও কিছুটা সমন্বয় করতে হবে।
সূত্র : এনগ্যাজেট

শাহজালাল রোহান