এআই প্রশিক্ষণে ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ বন্ধে নতুন নিয়ম আনছে গুগল-ওপেনএআই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রশিক্ষণে ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ বা স্ক্র্যাপিং নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে গুগল, ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক ও মাইক্রোসফট। নতুন একটি নির্দেশনা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের মালিক ও প্রকাশকেরা তাঁদের কনটেন্ট এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা যাবে কি না, সে বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন।
ইন্টারনেটের উন্মুক্ত মান নিয়ে কাজ করা সংস্থা আইইটিএফে প্রস্তাবটি বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রস্তাবটি তৈরি করেছেন অ্যানথ্রোপিকের প্রযুক্তিগত মানবিষয়ক প্রধান কেভিন কেলি।
বর্তমানে কোনো ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করতে হলে সাইটের মালিকদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা নির্দেশনা দিতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় একটিমাত্র সাধারণ সংকেতের মাধ্যমে একাধিক এআই প্রতিষ্ঠানকে তথ্য সংগ্রহের অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা জানানো যাবে।
এ জন্য ওয়েবসাইটের ‘রোবটস ডট টিএক্সটি’ ফাইলে এআই প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা একটি নির্দেশনা যুক্ত করতে হবে। এখানে ‘ডিসঅ্যালাও’ নির্দেশনার মাধ্যমে এআই প্রশিক্ষণের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ক্রলারকে পুরো ওয়েবসাইটে প্রবেশে বাধা দেওয়া যাবে। অন্যদিকে অ্যালাও নির্দেশনা ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কোনো অংশের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি রাখা যাবে। যেমন, কোনো ওয়েবসাইটের প্রেস কিট বা সংবাদমাধ্যমের জন্য নির্ধারিত অংশ এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে নতুন এই নির্দেশনা ওয়েবসাইটের সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ বন্ধ করবে না। একইভাবে গুগল সার্চে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট দেখানোও বন্ধ হবে না। উদাহরণ হিসেবে, গুগল নির্দেশনাটিকে তাদের গুগল-এক্সটেন্ডেড ক্রলারের জন্য নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করবে। এই ক্রলার জেমিনি মডেলের প্রশিক্ষণে ব্যবহারের উপযোগী তথ্য সংগ্রহ করে।
এ ছাড়া নতুন নিয়ম কার্যকর হলেও আগে সংগ্রহ করা তথ্য মুছে যাবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আগেই কোনো ওয়েবসাইটের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে, তাহলে নতুন নির্দেশনা সেই তথ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এটি মূলত ভবিষ্যতে ওয়েবসাইট বা নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা থেকে তথ্য সংগ্রহ ঠেকাতে কাজ করবে।
অ্যানথ্রোপিক ইতিমধ্যে নতুন নির্দেশনা সমর্থন করা শুরু করেছে। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তারা এটি কার্যকর করবে। গুগলও ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ওপেনএআই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন সংকেত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন এই উদ্যোগ সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সাংবাদিকদের তৈরি সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও অন্যান্য কনটেন্ট এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পছন্দ জানাতে পারবে। ফলে কোনো সংবাদমাধ্যম চাইলে তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য ভবিষ্যতে এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা দিতে পারবে। তবে এ ব্যবস্থা আগে সংগৃহীত তথ্য মুছে ফেলবে না কিংবা কনটেন্ট ব্যবহারের জন্য কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করবে না।
সূত্র: এনগ্যাজেট

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক