সকালে উইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
প্রথমবার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে বাংলাদেশের সামনে। তবে সেজন্য ঘরের মাঠের সিরিজগুলো জয়ের কোনো বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে। যে মিশন শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। বাংলাদেশও সাম্প্রতিক ত্রিদেশীয় সিরিজের ব্যর্থতা ভুলে জয়ে রাঙাতে চায় উইন্ডিজ সিরিজ।
বুধবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৯টায় প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটি বাংলাদেশে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। অনলাইনে দেখা যাবে র্যাবিটহোল, ট্যাপম্যাড অ্যাপে।
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। চলতি চক্রে টাইগারদের সামনে এখনও মোট ছয়টি ম্যাচ বাকি আছে। ঐতিহাসিক ফাইনালে টিকিটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এই ছয় ম্যাচের মধ্যে অন্তত চারটিতে জয় এবং একটিতে ড্র করতেই হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে।
অবশ্য ফাইনালের এই রাস্তাটা খুব একটা সহজ নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ শেষ করার পর দক্ষিণ আফ্রিকা ও শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও সিরিজ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। তবে তুলনামূলকভাবে টেবিলের অষ্টম স্থানে থাকা এবং ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে কিছুটা এগিয়ে থেকেই লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ দল।
চলতি বছর টেস্ট ক্রিকেটে মিশ্র কাটলেও পাকিস্তানের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বড় প্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য। যদিও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে হার এবং গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে গিয়ে প্রথম টেস্ট জিতেও সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করার আক্ষেপ রয়েছে।
সর্বশেষ চলতি মাসেই আবু ধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় দলকে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওই ম্যাচগুলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে থাকায় পয়েন্ট টেবিলে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
আফগান সিরিজের পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য সময়টা ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। লিগ পর্বে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় না পাওয়ায় ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় দল। তবে কোচ ফিল সিমন্স আত্মবিশ্বাসী, ওই হতাশা পেছনে ফেলে টেস্টের এই বড় মঞ্চে ঠিকই ঘুড়ে দাঁড়াবে দল।
ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেন, ‘সবাই এখন পুরোপুরি টেস্ট ম্যাচের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার দারুণ একটা সুযোগ আমাদের সামনে আছে, যা খেলোয়াড়দের দারুণভাবে উজ্জীবিত করবে। আমার পূর্ণ বিশ্বাস, ছেলেরা এই দুই টেস্টের জন্য মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও পরিসংখ্যানে উইন্ডিজের বিপক্ষে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে টাইগাররা। এ পর্যন্ত দুই দল মোট ১১টি টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র দুটিতে (২০০৯ ও ২০১৮ সালে)।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে আটটি সিরিজ এবং একটি সিরিজ ড্র হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ২২টি টেস্টে মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ ৫টিতে এবং ক্যারিবীয়রা ১৫টিতে জয় পেয়েছে, বাকি ২ ম্যাচ ড্র হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২১ সালে বাংলাদেশে এসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে টাইগারদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল উইন্ডিজ।
এদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে এটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ সিরিজ। চলতি বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জেতার পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে ড্র করা ক্যারিবীয়রা দারুণ আত্মবিশ্বাসী।
দলের মানসিকতা নিয়ে উইন্ডিজ কোচ ড্যারেন স্যামি বলেন, ‘আমরা জানি বাংলাদেশ ঘরের মাঠে কতটা কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে আমরাও এ বছর বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রের শেষ দুই ম্যাচ ভালোভাবে শেষ করতে এবং নিজেদের সেরাটা দিতে ছেলেরা মুখিয়ে আছে।’

স্পোর্টস ডেস্ক