ম্যাচ হারের কারণ হিসেবে যা বললেন শান্ত
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট তাই কেবল আরেকটি ম্যাচ ছিল না, বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের মঞ্চও ছিল। যা ফাইনালে উঠার পথ আরও সহজ করে দিতে পারতো। কিন্তু জয়ের আশার বদলে মিরপুর টেস্ট শেষ হয়েছে হতাশায়। ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়েও ক্যারিবীয়দের আটকে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। ৮ উইকেটের বড় হারের পর এখন প্রশ্ন উঠছে, এমন পরাজয়ের দায় কোথায় দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত?
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটের পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে সফরকারীদের সামনে মাত্র ১৭০ রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারে স্বাগতিকরা। তবে স্পিন সহায়ক উইকেটে এই রান নিয়েও জয়ের আশা ছাড়েনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত বোলারদের ব্যর্থতায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিলেও নিজেদের বোলিং পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তিনি। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে বোলাররা আরও নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর হতে পারতেন বলে মনে করেন অধিনায়ক।
সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘১৭০ হওয়ার পর আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। উইকেটের যে অবস্থা ছিল, তাতে সেটা সম্ভব মনে হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়নি। অবশ্যই ওদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে আমি বলব, এই উইকেটে আমরা আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।’
শান্তর আরও বলেন, ‘এই উইকেটে বাংলাদেশ আরও ভালো বোলিং করতে পারত। পুরো ইনিংসে বোলারদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত মানে পৌঁছায়নি।’
চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের সহজে রান করার সুযোগ দেওয়াটাও বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তর মতে, বোলারদের লাইন ও লেংথে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। বিশেষ করে স্পিনাররা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পারেননি।
অধিনায়কের মতে, মাত্র দুটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য অতিক্রম করতে দেওয়া হতাশাজনক। এত কম রানের পুঁজি নিয়ে ম্যাচ জিততে না পারলেও আরও বেশি উইকেট নেওয়ার প্রত্যাশা ছিল দলের। অন্তত সাত থেকে আটটি উইকেট নিতে পারলে বোলারদের লড়াইয়ের চিত্র কিছুটা হলেও ফুটে উঠত।
শান্তর ভাষায়, ‘আমার কাছে মনে হয়, লেংথটা আমরা খুব ভালোভাবে ধরতে পারিনি। একটু এলোমেলো ছিল। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ওদের ব্যাটিং দেখেন, আমরা মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছি। এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অন্তত সাত-আটটি উইকেট নিতে পারলে হয়তো বুঝতাম, আমরা রানটা অনেক কম করেছি। কিন্তু এই জায়গাটায় আমার মনে হচ্ছে একটু এলোমেলো ছিল।’
এদিকে ম্যাচে একাধিকবার আম্পায়ার্স কল বাংলাদেশের বিপক্ষে যাওয়ায় আক্ষেপ রয়েছে শান্তর। অন্তত পাঁচটি রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত আম্পায়ার্স কলে নিষ্পত্তি হয়েছে, যার সব কটিই গেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে এসব সিদ্ধান্তকে পরাজয়ের কারণ হিসেবে দাঁড় করাতে রাজি নন তিনি।
টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘আপনি যখন ১৭০ রানের লক্ষ্য দেবেন, তখন পাঁচটি আম্পায়ার্স কলের মধ্যে তিনটি আপনার পক্ষে দরকার হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ সেটা হয়নি। এটা ক্রিকেটের অংশ। আম্পায়ারকে দোষও দিতে পারবেন না। ধরে নিতে হবে, আমাদের ভাগ্যে ছিল না। তবে শুরুতেই যে আউটটা আমরা পাইনি, সেটা পেলে হয়তো অন্য রকম মোমেন্টাম পেতাম। কিন্তু এটাকে অজুহাত দিতে চাই না।’
তবে বারবার একই ধরনের সিদ্ধান্ত বিপক্ষে যাওয়ায় দলের খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থায় প্রভাব পড়েছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি। টানা চার-পাঁচটি আম্পায়ার্স কল বিপক্ষে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
শান্ত বলেন, ‘মিথ্যা বলব না। যখন অনেক বেশি হয়, তখন একটু ডিমোটিভেটেড লাগে। চার-পাঁচটি এমন হলে স্বাভাবিকভাবেই একটু হতাশা আসে।’

স্পোর্টস ডেস্ক