মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে নানা অভিযোগ বেনিনের
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির দুই দশকের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। আফ্রিকার দেশ বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয় দিয়ে আকাশি-নীল জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন মেসি। এই ম্যাচের পুরো আয়োজন যে কেবলই মেসির বিদায়ের জন্য সাজানো হয়েছিল, তা নিয়ে কারোরই কোনো সংশয় নেই।
বিশ্ব ফুটবলের এমন একজন মহানায়ককে রাজকীয় বিদায় জানানোর বিষয়টি নিয়ে চারদিকে যখন কেবল প্রশংসার জোয়ার বইছে, ঠিক তখনই একদম উল্টো সুর শোনা গেল প্রতিপক্ষ শিবির থেকে। বেনিন ফুটবল ফেডারেশন ও তাদের খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে, ঐতিহাসিক এই বিদায়ী ম্যাচের আড়ালে মূলত তাদের চরমভাবে অপমান করা হয়েছে!
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত মেসির এই আন্তর্জাতিক বিদায়ী ম্যাচটিকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বেনিন দল।
বেনিনের জোরালো অভিযোগ—বহুল আলোচিত এই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে খেলতে আসা আফ্রিকান দেশটির ফুটবলার ও টিম অফিশিয়ালদের সঙ্গে জার্সি বদল করা, ছবি তোলা কিংবা প্রাপ্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মতো ন্যূনতম সৌজন্যমূলক বিষয়গুলোও সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
ম্যাচে লিওনেল মেসির একটি দুর্দান্ত গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করানো জোড়া অ্যাসিস্টের সুবাদে কোচ লিওনেল স্কালোনির দল সহজেই ৩-০ গোলে বেনিনকে হারিয়ে দেয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর থেকেই মাঠের মধ্যে আফ্রিকান দলটিকে একপ্রকার পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ও কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাদের সঙ্গে একটু কথা বলা বা ন্যূনতম সৌজন্যমূলক শুভেচ্ছা বিনিময়ের কোনো সুযোগই তাদের দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম খ্যাতনামা ও নির্ভরযোগ্য ফরাসি অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোমাঁ মোলিনা তার ভেরিফাইড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্ফোরক পোস্টে বেনিনের প্রতি করা এসব অনৈতিক আচরণের কথা বিস্তারভাবে তুলে ধরেছেন।
ম্যাচের আয়োজক ও স্বাগতিক আর্জেন্টাইন ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বেনিন দলের ওপর আরোপিত বিভিন্ন কঠোর বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ টেনে সাংবাদিক মোলিনা লিখেছেন, ‘বেনিন দলটির প্রতি আর্জেন্টাইন ফেডারেশন এবং তাদের খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল সত্যিই লজ্জাজনক।’
তিনি লিখেছেন, ‘তাদের (বেনিন) কোনো ম্যাচ বোনাস দেওয়া হয়নি, ম্যাচ আয়োজনের বাণিজ্যিক লভ্যাংশ বা টিকিট বিক্রি থেকে এক সেন্টও তাদের দেওয়া হয়নি, এমনকি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনো জার্সি বিনিময় পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি, তোলা হয়নি একটি যৌথ ছবিও এবং খেলা শেষে স্বাগতিকদের ড্রেসিংরুমের করিডোরে তাদের প্রবেশাধিকার পর্যন্ত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল!’
এর আগে মেসির এই বিদায়ী ম্যাচটির আয়োজন ও এর পেছনের বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াকে নিয়েও নানা সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। ফরাসি ক্রীড়া সাংবাদিক রোমাঁ মোলিনা তার লেখায় মূলত সেই একই বাণিজ্যিক স্বার্থের বিষয়টি সামনে এনেছেন।
মোলিনা লিখেছেন, ‘যাদের (বেনিন) এই পুরো অনুষ্ঠানে কেবল একটি শো-পিস বা সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের ঘাড়ে ভর করেই মূলত কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেছে আয়োজকরা।’
বেনিন দলের প্রতি এ ধরনের অবমূল্যায়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই তাদের খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্টের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। এমনকি এর আগে বুয়েন্স আয়ার্সে আসার পর সেখানকার স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থা এবং হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়েও আফ্রিকান দলটির পক্ষ থেকে নানা অসন্তোষ ও অভিযোগের কথা জানানো হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ থাকা এই জমজমাট প্রদর্শনী ম্যাচটি থেকে সফরকারী বেনিন দলকে কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা ম্যাচ ফি পর্যন্ত প্রদান করা হয়নি। ফলে মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে পুরো এই বিদায়ী আয়োজন নিয়ে বেনিন দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মনে এক গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক