বিতর্কিত পোস্ট করে রোনালদো ভক্তদের তোপের মুখে রামোস
পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নাটকীয়ভাবে চলে যাওয়ার রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই নতুন এক বিতর্কে জড়িয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ‘সিআর সেভেনের’ বদলি হিসেবে মাঠে নামা তরুণ স্ট্রাইকার গনসালো রামোস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘বিশ্বের সেরা খাঁটি স্ট্রাইকার’ দাবি করে একটি পোস্ট শেয়ার করার পর থেকেই পর্তুগিজ ফুটবল অঙ্গন এবং সমর্থকদের মধ্যে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
চলতি উয়েফা নেশন্স লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচটির পরেই মূলত এই বিতর্কিত পোস্টটি সামনে আসে। দলের মহাতারকা রোনালদোর অনুপস্থিতিতে একাদশে সুযোগ পেয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে তা দারুণভাবে লুফে নেন রামোস। পরিসংখ্যানেও তার প্রমাণ স্পষ্ট, জাতীয় দলের হয়ে শেষ তিন ম্যাচে ৩টি গোলের পাশাপাশি ১টি অ্যাসিস্টও নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
বিতর্কের শুরু হয় যখন রামোস তার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার কয়েকটি ছবির সঙ্গে ক্রীড়া বিশ্লেষক লুইস ফ্রেইতাস লোবোর একটি বিস্ফোরক মন্তব্য শেয়ার করেন। সেই বিশ্লেষণে লোবো দাবি করেছিলেন যে, পিএসজির সাবেক এই স্ট্রাইকারই পর্তুগিজ ফুটবলের বর্তমান সময়ের ‘সবচেয়ে নিখাদ ও সেরা স্ট্রাইকার’, যার গোল করার দক্ষতা কেবল কোনো বড় ব্র্যান্ড বা রোনালদোর মতো খ্যাতির মোড়কে ঢাকা নয়।
ওই পোস্টটি নিজের প্রোফাইলে পুনরায় শেয়ার করে রামোস ক্যাপশনে লিখেছিলেন—‘সেরা ফুটবলারের জন্য আরও উত্তম এক স্থান।’ কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং তীব্র তোপের মুখে পড়েন তিনি।
রোনালদোর বিশাল ভক্তকুল বিষয়টিকে জাতীয় দলের সাবেক ও কিংবদন্তি অধিনায়কের প্রতি এক ধরনের পরোক্ষ অবমূল্যায়ন, খোঁচা বা কটাক্ষ হিসেবেই দেখছেন। ভক্তদের লাগাতার ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটি নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে মুছে ফেলতে বাধ্য হন রামোস।
২০২২ সালে প্রথমবারের মতো পর্তুগাল জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৪টি গোল করেছেন রামোস। ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় তাকে মূলত বড় ভাইসুলভ ও মূল স্ট্রাইকার রোনালদোর ছায়াতলেই কাটাতে হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার দারুণ এক পথ খুঁজে পেয়েছেন তিনি।
এদিকে মাঠের বাইরের এই বিতর্কের মাঝেও তরুণ ফরোয়ার্ডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন পর্তুগালের কোচ জর্জে জেসুস। বেনফিকা ক্লাব থেকেই রামোসের ফুটবলীয় প্রতিভা খুব কাছ থেকে দেখেছেন উল্লেখ করে কোচ জানান, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে গোল করার ক্ষমতা এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে রামোসের পারফরম্যান্স সত্যিই চোখে পড়ার মতো।
রামোস সম্পর্কে জেসুস বলেন, ‘সে খুব দ্রুত মাঠে পরিণত খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে মেলে ধরছে এবং আমার বিশ্বাস সে সামনে আরও অনেক ভালো করবে।’ কোচ রুবেন আমোরিমের অধীনে রামোসের বর্তমান দুর্দান্ত এই ফর্ম পর্তুগাল জাতীয় দলের পাশাপাশি তার নতুন ক্লাব মিলানের জন্যও অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন হবে বলে মনে করেন পর্তুগিজ কোচ।

স্পোর্টস ডেস্ক