ফিফা নির্বাচন নিয়ে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কপালে চিন্তার ভাঁজ
২০১৬ সালে সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফা সভাপতি পদে দায়িত্ব নেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, দ্বিতীয় দফার ভোটে জয় পান তিনি। এরপর ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়ে ফিফার শীর্ষ পদে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন ইনফান্তিনো। তবে চতুর্থ মেয়াদে লড়াইয়ের আগে নিজ দেশ সুইজারল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন হারিয়ে এবার বড় চাপে পড়েছেন তিনি।
ফিফা সভাপতি পদে আরেক মেয়াদে থাকার প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা খেলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এবার তার প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে নিজ দেশ সুইজারল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এসএফভি)। চলতি বছরের জুনে সমর্থন জানানোর পর কয়েক মাসের মধ্যেই অবস্থান পরিবর্তন করল সংস্থাটি।
জুলাইয়ে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। এরপর ইংল্যান্ড, ওয়েলস, ফ্রান্স, সার্বিয়াসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।
চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইনফান্তিনোর প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় এসএফভির কেন্দ্রীয় কমিটি। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, জুন ২০২৬ সালে ইনফান্তিনোর আরও এক মেয়াদে ফিফা সভাপতি পদে প্রার্থিতার প্রতি যে সমর্থন জানানো হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সুইস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, ইনফান্তিনো নিজেই সুইজারল্যান্ডের নাগরিক। পাশাপাশি ফিফা ও ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফার সদর দপ্তরও সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
এসএফভি জানিয়েছে, ‘গত কয়েক মাসের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসএফভির দৃষ্টিতে, সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনা ফিফার নেতৃত্ব, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে মৌলিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।’
ইনফান্তিনোর ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ বা এফএফই পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যাপক সমালোচনার পর শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব থেকে সরে আসেন তিনি।
ইনফান্তিনোর ওই প্রস্তাব নিয়ে এসএফভির সভাপতি পিটার ক্নাবেল বলেন, ‘এই প্রস্তাবের পটভূমি, দায়িত্ব বণ্টন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের এখনো উত্তর পাওয়া যায়নি।’
২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতির পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইনফান্তিনোর। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। নির্বাচনের আগে নিজ দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন হারানোয় ইনফান্তিনোর প্রার্থিতাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্পোর্টস ডেস্ক