পর্তুগালের কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বে রোনালদো
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ডবুকের অন্যতম বড় নাম। অসংখ্য রেকর্ড ও অর্জনে সমৃদ্ধ এই কিংবদন্তিকে ঘিরেই এবার পর্তুগাল শিবিরে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। ঘটনা গড়িয়েছে এমন পর্যায়ে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নড়েচড়ে বসেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর জাতীয় দলের অনুশীলনেও দেখা যায়নি পর্তুগিজ তারকাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা।
পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুস ও অধিনায়ক রোনালদোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফেডারেশন প্রধান। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মেরকাতো’র বরাতে জানা গেছে, রোনালদোকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতেই এই বৈঠকের আয়োজন।
ঘটনার সূত্রপাত নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে। উয়েফা নেশনস লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের সেই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে জিতলেও পুরো ৯০ মিনিট মাঠের বাইরে ছিলেন রোনালদো। দীর্ঘ ১৮ বছর পর জাতীয় দলের হয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি।
এর আগে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ে রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল। তবে তারও আগে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছিলেন রোনালদো।
তিনি বলেছিলেন, “মি খেলি বা না খেলি, আমি সাহায্য করার জন্য এখানে আছি। আমি অনেকের মধ্যে একজন মাত্র। সবসময় এমনই ছিল, ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। আমি আবারও বলছি, কোচ আমাকে যা করতে বলবেন, আমি তাই করব, খেলতে বললে খেলব, বদলি হলে বদলি হব, এমনকি না খেলালেও। পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান সবকিছুর ঊর্ধ্বে।”
কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। নরওয়ের বিপক্ষে তাকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রাখেন জেসুস। ম্যাচের পর রোনালদোকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাখ্যাও দেন পর্তুগালের কোচ।
জেসুস বলেন, “আমি বুঝতে পারিনি যে সে অসন্তুষ্ট ছিল। শুধু সেই-ই এর উত্তর দিতে পারে। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত, তাকে না খেলানোর অর্থ এই নয় যে আমি তার ওপর নির্ভর করি না। বরং ম্যাচের আগে আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি শুরু থেকে খেলবে না, তবে বদলি হিসেবে তোমাকে নামাব। এটা ফুটবল, এখানে পরিস্থিতিই অনেক সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে।”
এরপর মালমোতে পর্তুগালের অনুশীলন ঘিরেও আলোচনায় আসেন রোনালদো। অনুশীলন শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে মাঠে আসেন তিনি। এ সময় কোচ জেসুসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন রোনালদো। এরপর অনুশীলনে যোগ না দিয়ে ফিরে যান হোটেলে।
পর্তুগিজ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অবশ্য বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, মালমো এফসির মাঠে রোনালদোর ব্যক্তিগত অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। তাই তিনি হোটেলে গিয়ে জিমে ব্যক্তিগত অনুশীলন করেন।
রোনালদোর সঙ্গে কোনো বিরোধের কথা অস্বীকার করেছেন জেসুসও। তার দাবি, প্রতিদিনই রোনালদোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে কথা বলি।”
তবে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিষয়টি এতটা সহজভাবে দেখছে না ফেডারেশন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পেদ্রো প্রোয়েনসা তার পূর্বনির্ধারিত সফরসূচিও বদলে ফেলেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আজোরেসে পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-২১ দলের জিব্রাল্টারের বিপক্ষে ম্যাচ দেখার কথা ছিল প্রোয়েনসার। সেই ম্যাচ জিতলে ইউরোপিয়ান অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার কথা পর্তুগালের। এরপর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ডেনমার্কের বিপক্ষে জাতীয় দলের ম্যাচ দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে তার।
কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল করে সরাসরি কোপেনহেগেনের দিকে রওনা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রোয়েনসা। সেখানেই জেসুস ও রোনালদোর সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে তার।
ডেনমার্কের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাই পর্তুগাল দলে এখন মাঠের বাইরের ঘটনাই সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

স্পোর্টস ডেস্ক