জ্যোতির অধিনায়কত্ব নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নিলো বিসিবি?
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটার সময় এখনও আসেনি। বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নারী দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে এক বৈঠকে বসেছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নারী বিভাগের চেয়ারম্যান জানান, সামনেই খেলা থাকায় এখনই কোনো হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।
রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। কারণ আগামী নভেম্বর মাসে আমাদের একটি ইমার্জিং নেশনস কাপ টুর্নামেন্ট আছে। সেখানে জাতীয় দল থাইল্যান্ডে খেলতে যাবে। তাই আমরা একটু সময় নিচ্ছি।’
সম্প্রতি এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন জ্যোতি। এরপরই তিনি সরাসরি বিসিবিকে মেইল করে টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এশিয়ান গেমস থেকেও দলের ব্যর্থতার পর বিষয়টি নিয়ে বিসিবির অন্দরে আলোচনা শুরু হয়।
তবে এভাবে সরাসরি মেইল করে বা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা না করে অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণাকে ভালোভাবে নেয়নি বোর্ড। এ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, নিয়মের বাইরে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, ‘একটা মেইল দেওয়া তো আর সমাধান না। তবে মেইল দেওয়ার আগে বা মিডিয়ায় কথা বলার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বললেই জিনিসটা অনেক সহজ হতো। চেইন অব কমান্ড ঠিক থাকত, কিন্তু এখানে সেটা ব্রেক হয়েছে।’
জ্যোতির সঙ্গে বোর্ডের আলোচনা হয়েছে জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘দায়িত্ব ছাড়ার আগে আমাদের সঙ্গে আলাপ করতে পারত যে, কীভাবে সমাধান করা যায়। সেই জিনিসটা সে করেনি, যা খুবই দুঃখজনক। তবে সে বুঝতে পেরেছে যে সে ভুল করেছে।’
বোর্ড সভাপতিও মনে করেন, জ্যোতির উচিত ছিল অন্তত বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরামর্শ করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা চারপাশের সমালোচনায় ত্যক্ত-বিরক্ত হয়েই হয়তো তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে নিয়ম মেনে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল বলে মনে করছে কতৃপক্ষ।

স্পোর্টস ডেস্ক