চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দেখা যাবে যেসব নতুন নিয়ম
ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ২০২৬-২৭ মৌসুমের পর্দা উঠছে আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর)। প্রথম দিনেই দেখা মিলবে জমজমাট লড়াই। সেই লড়াইয়ের সঙ্গে দেখা যাবে নতুন কিছু নিয়মও। যদিও এরইমধ্যে বেশ কিছু নিয়ম বিশ্বকাপসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টে চালু হয়েছে।
মূলত মাঠে অযথা সময় নষ্ট করার প্রবণতা রোধ করা, বদলি খেলোয়াড় নামানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করা এবং ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার আরও স্পষ্ট করার লক্ষ্যেই নিয়মে এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যেসব নিয়ম আনা হচ্ছে
খেলোয়াড় বদলি : ম্যাচ চলাকালীন কোনো খেলোয়াড়কে বদলি করার সময় মাঠ থেকে উঠে যাওয়া ফুটবলারকে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে। যদি তিনি এতে ব্যর্থ হন, তবে নতুন নামা বদলি খেলোয়াড়কে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর অন্তত ১ মিনিট বা প্রথম খেলা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
মাঠে চিকিৎসা : চোটের কারণে কোনো খেলোয়াড়কে মাঠের ভেতরে চিকিৎসা দিতে খেলা থামাতে হলে, চিকিৎসা শেষে তাকে অন্তত ১ মিনিট মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হবে। তবে গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। এছাড়া গোলরক্ষক ও অন্য কোনো খেলোয়াড়ের সংঘর্ষে দুজনেই আহত হলে কিংবা ফাউলের শিকার হয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় কার্ড দেখলে এই নিয়ম কার্যকর হবে না।
থ্রো-ইন ও গোল কিক : থ্রো-ইন বা গোল কিক নেওয়ার সময় অহেতুক দেরি করলে শাস্তি হিসেবে প্রতিপক্ষ দলকে কর্নার কিক উপহার দিতে পারেন রেফারি। খেলা দ্রুত চালু করার তাগিদে রেফারি এখন থেকে খেলোয়াড়দের ৫ সেকেন্ডের সময় বেঁধে দেবেন।
ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ : রেফারি মাঠে কোনো ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দিয়ে ফেললে, ভিএআর প্রযুক্তি এখন তা পুনর্বিবেচনা করতে পারবে। তবে মূল ফাউলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে না, কেবল সঠিক সঠিক খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করতেই ভিএআর রিভিউ সীমিত রাখা হবে।
ভুল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড : স্পষ্ট কোনো ভুলবশত যদি কোনো ফুটবলারকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বা লাল কার্ড দেখানো হয়, তবে তা ভিএআরে পর্যালোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রেফারি রিভিউ দেখার আহ্বান জানাতে পারবে এবং ভুল প্রমাণিত হলে কার্ড বাতিল করে ওই খেলোয়াড়কে মাঠে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে।
সেট পিস থেকে ফাউল : ফ্রি-কিক বা কর্নার থেকে বল পুরোপুরি সচল হওয়ার আগেই যদি আক্রমণভাগের কোনো দল স্পষ্ট ফাউল করে এবং এর ফলে গোল বা পেনাল্টির মতো কোনো সুবিধা আদায় করে নেয়, তবে ভিএআর সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে গোল বা পেনাল্টি বাতিল হয়ে পুনরায় ফ্রি-কিক বা কর্নার কিক দেওয়া হবে।
গোল কিক ও হ্যান্ডবল : গোল এরিয়ার ভেতরে বল স্থির থাকা অবস্থায় যেকোনো খেলোয়াড় কিক করলেই গোল কিক নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা হবে। এরপর যদি গোলরক্ষকের দলের কোনো সতীর্থ ডি-বক্সের ভেতর জেনেশুনে হাতে বা বাহুতে বল স্পর্শ করেন, তাহলে পেনাল্টি পাবে প্রতিপক্ষ দল।

স্পোর্টস ডেস্ক